নিবিড়তম আলিঙ্গনকালে
হৃদয়মন্থনের চূড়ান্ত স্তরে
আমার পেলবতম গভীরে
যখন তীব্রবেগে
নিক্ষিপ্ত হয় তোমার উষ্ণ প্রস্রবণ—
তা কেবল দেহের কোনো জৈবিক স্রোত নয়,
বরং গলিত নক্ষত্রের দুধসাদা অগ্নি,
যা অন্ধকারের গুহায় ঢুকে
শিলাস্তম্ভকে গলিয়ে দেয়
আপন শুভ্রতার তেজে।
আমার অন্তঃস্থ গিরিখাতে
তখন জেগে ওঠে অচেনা জোয়ার,
শিরায় শিরায় বাজতে থাকে
অদৃশ্য ঢাকের তীব্র তান।
সমুদ্রের নিচে যেমন
অগ্ন্যুৎপাতের পর জন্ম নেয় নতুন দ্বীপ,
তেমনি আমার ভেতরে
হঠাৎ জন্ম নেয় উজ্জ্বল ভূকম্প।
তোমার উষ্ণতা
আমার গভীর অন্ধকারে ছুঁড়ে দেয় আগুনের বীজ,
আর আমি—
এক প্রাচীন গ্রহের মতো
নিজ অক্ষে দ্রুততর ঘুরতে ঘুরতে
ক্রমশঃ শীর্ষের দিকে ছুটে যাই।
সেই থরথর শীর্ষসুখে
অপ্রতিরোধ্য বানভাসি
কোনো ক্ষণস্থায়ী আর্তনাদ নয়—
তা এক আলোকবিস্ফোরণ,
যেখানে শরীর ভেঙে পড়ে নক্ষত্রধূলিতে,
আর আত্মা
এক শুভ্র ঘূর্ণির ভেতর
নিজেকেই অতিক্রম করে।
তখন আর তুমি-আমি নেই—
শুধু সহসা বিস্ফোরণ,
শুধু দ্রুতগামী স্পন্দন,
শুধু এক উর্ধ্বমুখী জোয়ার
যার ব্যপ্তি সমস্ত সীমা ভেঙে
মহাকাশের অসীমে পরিণত হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন