সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিশাল হৃদয়

যখন একজন মানুষের হৃদয়
তার মস্তিষ্কের চেয়ে ভারী হয়ে ওঠে,
তখন তা গুণের ছদ্মবেশে
একটি দায় হয়ে দাঁড়ায়।

ভালবাসা তাকে প্লাবিত করে—হ্যাঁ—
কিন্তু বন্যা কখনও কোমল নয়;
সে দিশাচিহ্ন ডুবিয়ে দেয়,
রাস্তা মুছে ফেলে,
কৃতজ্ঞ অথচ পথহারা করে তোলে।

সে আগে অনুভব করে—সবসময়।
ভাবনা আসে পরে,
যদি আদৌ আসে।
তার করুণা গতি থামিয়ে দেয়।
তার সহানুভূতি দেরি করায় সেই সিদ্ধান্তগুলোকে
যাদের প্রয়োজন
‘না’-র নির্মম অথচ পরিষ্কার দৃঢ়তা।

সে উষ্ণতাকে জ্ঞান ভেবে ভুল করে।
সততাকে দিশা মনে করে।
দ্বিধাকে “মানবিকতা” বলে ডাকতে ডাকতে
জীবন তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়—
সব চুক্তিতে আগেই সই হয়ে যায়।

পৃথিবী তাকে শাস্তি দেয় না—
সে কেবল এগিয়ে যায়।
সুযোগ নিষ্ঠুর নয়;
তারা অধৈর্য।
তারা অপেক্ষা করে না
সে কখন সবাইকে বুঝে নেওয়া শেষ করবে।

সে নিজের প্রভাব ছুড়ে ফেলে
যেন তা বিষ।
সে কৌশলের বদলে ক্ষমা বেছে নেয়,
শৃঙ্খলার বদলে মাফ,
তারপর অবাক হয়
কেন শক্তরা ফল উত্তরাধিকার সূত্রে পায়
আর তার ভাগে জোটে কেবল গল্প।

উদ্দেশ্য চায় স্তরবিন্যাস—
অগ্রাধিকার গাঁথা,
ত্যাগ বাছাই করা।
কিন্তু তার হৃদয় শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে,
সবকিছুকে সমান প্রয়োজন,
সমান জরুরিতে অকেজো করে দেয়,
যতক্ষণ না কিছুই এগোয়।

সাফল্য চায় একধরনের সংকোচন—
হতাশ করতে পারার সাহস,
আগুন পেরিয়ে থামাহীন হাঁটা,
কিছু মানুষকে পুড়তে দেওয়া
যাতে ভবিষ্যৎ আদৌ থাকতে পারে।

সে তা পারে না।
তার হৃদয় খুব প্রশস্ত,
খুব গণতান্ত্রিক,
মুখ বাঁচাতে ব্যস্ত—
মেরুদণ্ড গড়ার সময় পায় না।

তাই সে থেকে যায় প্রিয়—
হ্যাঁ, গভীরভাবে, ব্যাপকভাবে, অকেজোভাবে।
একটি আশ্রয়, শক্তি নয়।
একটি শরণ, দিশা নয়।
আর শেষে,
ইতিহাস নথিভুক্ত করে না
সে কতটা দয়ালু ছিল।

ইতিহাস লেখে
কে পৃথিবী সরিয়েছিল।
বাকিরা স্মরণে থাকে
শুধু তাদের কাছে
যাদের বেঁচে থাকতে সে সাহায্য করেছিল।

কোন মন্তব্য নেই: