রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬

আদর

আদুরে প্রেমিকা
মাঝেমধ্যে বুকের মধ্যে মাথা রেখে
ঘুমোতে চাইলে—
সময় তখন ঘড়ি ভুলে যায়,
ঘণ্টার কাঁটা নরম তুলোর মতো ভেঙে পড়ে,
আর নিঃশ্বাসগুলো
দুটি নদীর মতো একে অপরের ভাষা শিখে নেয়।

তার চুলের অন্ধকারে
আমি রাতের আকাশ লুকিয়ে রাখি,
কপালের কাছে কপাল এলে
ভাগ্য নিজের হাত বদলে ফেলে।
বুকটা আর শুধু বুক থাকে না—
ওটা হয়ে ওঠে আশ্রয়,
ওটা হয়ে ওঠে এমন এক দেশ
যেখানে যুদ্ধ নেই,
শুধু হৃদস্পন্দনের নীরব পতাকা ওড়ে।

সে ঘুমোয়,
আর ঘুমের ভিতর দিয়ে
জীবন আমাকে শেখায়
বাঁচাটাও কতটা কোমল হতে পারে।
সেই মুহূর্তে
সুখ কোনও উচ্চারণ নয়,
সুখ একধরনের দায়িত্ব—
যত্ন করে ধরে রাখা
একটা ঘুমন্ত পৃথিবী।

এই আনন্দের কোনও শব্দ নেই,
এটা ধ্বনি নয়—
এটা বুকের ভেতর ধীরে ধীরে
আলো জ্বলে ওঠার মতো।
তার ঘুমের ওজনটুকু
আমার ক্লান্তি মুছে দেয়,
যেন বহু জন্ম ধরে জমে থাকা
অপ্রয়োজনীয় ভার
কেউ নিঃশব্দে নামিয়ে রাখছে পাশে।

আমি নড়তে ভয় পাই—
যদি স্বপ্নটা জেগে যায়।
এই বুকের খাঁচায় তখন
হৃদয় নয়,
একটা পূর্ণিমা শুয়ে থাকে।
বাইরে পৃথিবী তখনও
হিংস্র, তাড়াহুড়ো করা,
কিন্তু আমার ভেতরে
একটি মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে—
এটুকুই যথেষ্ট
সব অশান্তিকে মিথ্যে প্রমাণ করার জন্য।

এইভাবেই
একটা মাথা,
একটা বুক,
আর একটু নিঃশ্বাস—
জীবন হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ।
আর আমি জানি,
যদি কখনও প্রশ্ন আসে
বেঁচে থাকার মানে কী—
আমি কোনও উত্তর দেব না,
শুধু এই নীরব দৃশ্যটা
দেখিয়ে দেব।

কোন মন্তব্য নেই: