ভালোবাসা কোনো লেনদেনের খাতা নয়,
তবু মানুষ হিসেব কষে—
আগে আমার ঘর ভরুক,
আমার ক্ষুধা থামুক,
আমার অভাব ঘুমোক,
তারপর আমি দেব—
যেন ভালোবাসা
শেষ মুহূর্তে ছাড় দেওয়া কোনো পণ্য।
এই ভাবনায় যারা বাঁচে
তারা থাকে মূর্খের স্বর্গে—
একটি কাচের নগরী,
যেখানে পাওয়ার স্বপ্ন আছে
কিন্তু দেওয়ার মাটি নেই।
কিন্তু প্রকৃত হিসেব
শুরু হয় উল্টো দিক থেকে।
ভালোবাসা চায় উজাড় হওয়া—
নিজেকে ফাঁকা করে
অন্যের তৃষ্ণা ভরতে দেওয়া।
যে আগে তৃপ্ত করে,
সে পরে পায়—
ধীরে ধীরে,
অনিবার্যভাবে,
ভেসে যায় পাওয়ার জোয়ারে ।
এটি নৈতিকতার পাঠ নয়,
এটি সময়ের নির্মম অঙ্ক।
আর নারী—
এই সময়ের খেলাতেই
বারবার ভুল করে।
সে অপেক্ষা করাতে ভালোবাসে—
মনে করে, বিলম্বই ক্ষমতা,
নীরবতাই দখল।
সে ভালোবাসাকে
একটি ঝুলন্ত ফল করে রাখে,
যা ছোঁয়া যায় না,
শুধু তাকিয়ে থাকা যায়।
পুরুষ তখন
ক্ষুধার মধ্যে বাস করে।
তার দিনগুলো ফাঁকা থালার মতো,
রাতগুলো
অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির শব্দে ভরে ওঠে।
এই দীর্ঘ বঞ্চনা
ধীরে ধীরে
একটি নিঃশব্দ অত্যাচারে রূপ নেয়—
দেহ নয়,
আত্মার ওপর চালানো।
ক্ষুধায় ক্ষুধায়
সে রিক্ত হতে থাকে,
রিক্ত হতে হতে
একসময় হতাশা জমে ওঠে
হাড়ের ভেতর।
শেষে সে বুঝতে শেখে—
যে ভালোবাসা
শুধু প্রতীক্ষার শাস্তি দেয়,
সে ভালোবাসা নয়,
সে কেবল ক্ষমতার ভুল ব্যবহার।
আর সে চলে যায়।
নারী তখন অবাক হয়ে দেখে—
সবই তো ছিল,
তবু কিছুই নেই।
কারণ সে দিয়েছিল
অসময়ে,
অথবা তখনো দেয়নি বলেই
সব খুইয়েছে।
ভালোবাসা আসলে
একটি ভয়ংকর সূক্ষ্ম বিদ্যা—
কখন উজাড় হতে হয়,
আর কখন থামতে হয়
নিজেরই দেওয়ার পরে।
যে এই সময় বোঝে,
সে কাউকে ধরে রাখে না—
তবু কেউ তাকে ছেড়ে যায় না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন