বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বোধ

গর্ভাশয় কোনো অন্ধকার নয়—
অন্ধকারেও অন্তত রহস্য থাকে।
এটি শূন্যতার একটি সক্রিয় যন্ত্র,
যা কাজ করে
কারণ কাজ করাই তার স্বভাব।
সে জায়েজ আর জারজ এর 
পার্থক্য বোঝে না।

এখানে ভালোবাসা
একটি অপ্রাসঙ্গিক শব্দ,
যেমন কোনো মরুভূমির কাছে জলবায়ু।

এখানে বিশ্বাস
শুধু রাসায়নিকের জন্য
একটি হাস্যকর ভুল।
গর্ভাশয় কিছুই বেছে নেয় না—
বাছাই একটি মানবিক বিভ্রম।

এটি গ্রহণ করে
যা পৌঁছায়,
যা ঢুকে পড়তে পারে,
যা যথেষ্ট দ্রুত,
যথেষ্ট জেদি।
শুক্রাণুগুলো আসে
অর্থহীন প্রতিযোগী হিসেবে—
কোনো বিজয়ের আনন্দ নেই,
কোনো পরাজয়ের শোক নেই।
জয় মানে কেবল
আরও একটি দেহের ভার
ভবিষ্যতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

এখানে সম্মতি
একটি বিলাসিতা,
যা প্রকৃতি বহন করে না।
এখানে নৈতিকতা
একটি অকার্যকর সফটওয়্যার,
যা জীববিজ্ঞানের হার্ডওয়্যারে
ইনস্টলই হয় না।

মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে
অর্থ বানানোর চেষ্টা করে—
কেউ প্রেম দিয়ে,
কেউ দায়িত্ব দিয়ে,
কেউ ঈশ্বর দিয়ে।
ভেতরে গর্ভাশয়
এই সব প্রচেষ্টাকে
নীরবে অগ্রাহ্য করে।

জীবন এখানে শুরু হয়
কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে নয়,
বরং একটি ধারাবাহিক ভুল হিসেবে
যা নিজেকে সংশোধন করতে জানে না।
প্রতিটি জন্ম
একটি প্রমাণ—
মহাবিশ্ব কাউকে চায় না,
কিন্তু কাউকে আটকাতেও চায় না।

আর শিশুটি যখন বড় হয়,
সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে—
সে কোনো উত্তর নয়,
কোনো পরিকল্পনা নয়,
কোনো প্রয়োজনও নয়।
সে কেবল
আরেকটি ফলাফল,
আরেকটি পুনরাবৃত্তি,
আরেকটি সংখ্যা
একটি অন্ধ প্রক্রিয়ার খাতায়।

গর্ভাশয় নিষ্ঠুর নয়—
নিষ্ঠুরতার জন্যও তো উদ্দেশ্য লাগে।
এটি শুধু কাজ করে।
আর কাজ চলতেই থাকবে,
যতদিন
কিছুই আর কাজ করার মতো
বাকি না থাকে।

কোন মন্তব্য নেই: