সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬

জান্নাত

ধর্মীয় আবেগ
কোনো জাতির উন্নতি ঘটাতে পারে না—
ওটা আগুনের মতো:
হাত গরম করে
কিন্তু পথ আলোকিত করে না।

আজানের ধ্বনি বাতাসে ভাসে,
ক্ষুধার্ত রাস্তাগুলোর উপর—
ছায়া লম্বা হয়,
পেট ভরে না।
ধর্মীয় বিপ্লব, যেখানেই হোক, আসে
ঝড়ের মতো,
তার চিৎকারে ভেঙে যায়
জানালার কাচ,
কিন্তু সে ভুলে যায়
ঘরের ভেতর
প্রদীপ জ্বালাতে।

পতাকা বদলায়,
স্লোগান বদলায়,
মন্ত্র নতুন পোশাক পরে—
কেবল ভিক্ষার বাটি
একই থেকে যায়,
আর তার ভেতরে
প্রতিশ্রুতির ফাঁপা প্রতিধ্বনি।

ইসলামের নামে
কারখানা বন্ধ হয়ে যায়,
স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে
ধুলো জমে,
নারীরা বোরকায় আবৃত হয়,
আর কৃষকের ঘামের উপর
জান্নাতের টিকিট ছাপা হয়।

এখানে বিশ্বাস হাঁটে
মাথা উঁচু করে,
আর যুক্তি
হাঁটু গেড়ে বসে—
ফলে ইতিহাস শেখে
কীভাবে
দারিদ্র্যকে
পবিত্র ঘোষণা করতে হয়।

একদিন জাতি প্রশ্ন করে—
আমরা এত প্রার্থনা করলাম,
তবু কেন আমাদের হাত ফাঁকা?
কোনো উত্তর আসে না,
কারণ তখন আল্লাহ
ক্ষমতার কোষাগারে ব্যস্ত।

তাই উন্নতির মানচিত্রে
ধর্মের নাম নয়,
লেখা থাকে শ্রম,
শিক্ষা, আর প্রশ্ন করার সাহস।
নইলে ধর্মীয় বিপ্লব
শেষ পর্যন্ত পারে শুধু
একটাই কাজ—
দারিদ্র্যকে
জান্নাতের নাম দিয়ে
চিরস্থায়ী করে যেতে।

কোন মন্তব্য নেই: