মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬

ভুল স্বপ্ন

সবাই ভাবলো
জীবন মানে মূলত সুখ—
একটা রঙিন বেলুন,
হাওয়ায় ভাসে,
হাত বাড়ালেই ধরা যায়।
শৈশব থেকে শেখানো হলো
হাসিই নাকি সাফল্যের প্রমাণ,
দুঃখ মানেই ব্যর্থতা,
কান্না যেন
একটা নিষিদ্ধ ভাষা।

কিন্তু জীবন এলো
মাটির গন্ধ মেখে—
হাঁটুর চামড়া ছিঁড়ে
শেখাল হাঁটা,
ঘামের নোনতা জলে
ভিজিয়ে দিল স্বপ্ন।

জীবন আসলে কষ্ট—
পাথরের মতো ভারী নয়,
বরং বালির মতো,
প্রতিদিন জুতোর ভেতর ঢুকে
হাঁটাকে ধীরে ধীরে
রক্তাক্ত করে।

এই সামান্য সত্যটি
মানতে না পেরে মানুষ
সুখের দোকানে দোকানে ঘুরলো,
নকল হাসি কিনলো,
ডিসকাউন্টে আশা নিলো,
আর প্রতিবারই
রসিদের শেষে লিখা থাকলো—
“ফেরতযোগ্য নয়।”

হতাশা তখন
স্থায়ী ঠিকানা বানালো,
বুকের ভেতর
একটা ভাড়া দেওয়া ঘর,
যেখানে প্রতিরাতে
“আরও ভালো হতো যদি…”
এই বাক্যটাই
বাতির মতো জ্বলে থাকে।

যে বুঝলো—
কষ্টই জীবন,
সুখ কেবল তার
মাঝে মাঝে নেওয়া শ্বাস,
সে আর ভাঙলো না,
সে আর অভিযোগ করলো না।
তার চোখে তখন
দুঃখও সুন্দর,
কারণ দুঃখ জানে
কীভাবে মানুষ বানাতে হয়।

আর যারা মানতে পারলো না,
তারা জীবনভর
একটা ভুল প্রশ্ন বয়ে বেড়ালো—
“আমি কেন সুখী নই?”
অথচ সঠিক প্রশ্নটা ছিল—
“আমি কষ্টকে
কতটা আপন করতে পেরেছি?”

কোন মন্তব্য নেই: