দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো।
বৃষ্টি থেমেছে বেশ কিছুক্ষণ।
এখন বাজে সাড়ে পাঁচটা।
চা খাওয়া হয়ে গেছে একটু আগে।
হাতে কোনও কাজ নেই।
হঠাৎই তোমার কথা মনে পড়েছে খুব।
বুকটা কেন যে ফাঁকা লাগে এমন!
কতদিন গল্প করার অবসর জোটেনি আমাদের।
তুমি কি ব্যস্ত এখনও অমিত আর লাবণ্যকে নিয়ে?
আমাকে নিয়ে যাবে একদিন শিলং পাহাড়ে?
অনেকদিন গল্প জমে আছে।
শিলং-এ পৌঁছে,
আমরা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে হাঁটব—
পাথরের ফাঁকে বৃষ্টির জল থরথর করে কাঁপবে,
যেন আমাদের দম আটকে থাকা নিঃশ্বাসের প্রতিধ্বনি।
তুমি হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যাবে,
আমি অবাক হয়ে তোমার দিকে তাকাব,
তুমি শুধু চেয়ে থাকবে—
একটা দৃষ্টিতে এত শব্দ, এত আমন্ত্রণ
যে আমি মুহূর্তেই বুঝে যাব,
আজ আমাদের মাঝে পাহাড়ের থেকেও উঁচু কিছু দাঁড়াবে না।
মেঘ নেমে আসবে, আলো ম্লান হবে,
শুধু তোমার মুখের রেখাগুলো
আমার কাছে ক্রমশ স্পষ্ট হতে থাকবে।
তুমি কিছু বলবে না,
আমিও না—
কিন্তু আমাদের নীরবতা তখন
ভাষার চেয়েও উষ্ণ হয়ে উঠবে।
আমি এগিয়ে আসব,
তুমি সামান্য পেছিয়ে যাবে,
তবু আমার হাত ছাড়বে না।
আমাদের মধ্যে তখন
এক অদৃশ্য ঢেউ উঠবে—
যার শব্দ কেবল আমরা শুনব,
কিন্তু পাহাড়, মেঘ আর বৃষ্টি
চোখ বুজে সাক্ষী হয়ে থাকবে।
তারপর…
পর্দা নেমে যাবে না—
কারণ গল্পটা সেখানেই থেমে থাকবে না,
বরং সেই পাহাড়ের গোপন গুহায়,
মেঘের গাঢ় পরতের আড়ালে,
আমরা তৈরি করব এক অদৃশ্য সেতু—
যা শুধু আমরা দু’জন জানব,
আর সারাজীবন
গোপনে বহন করব আমাদের রক্তের গহীনে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন