বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৫

দূরত্বের মনোবিজ্ঞান

দূরত্ব শুরু হয় না পায়ের ধ্বনিতে,

এটি জন্ম নেয় নীরবতার গভীরে—
যখন এক হৃদয় আরেক হৃদয়ের দিকে ঝুঁকে শোনে না,
যখন ক্ষুদ্র সংকেত বিলীন হয় অবহেলায়,
যখন আত্মার সূক্ষ্ম অনাগ্রহ
চাপা পড়ে যায় অভ্যাসের ভারে।

সম্পর্ক ভাঙে সচরাচর কোনো মহাবিশ্বাসঘাতকতায় নয়,
ভাঙে ধীরে ধীরে জমা হতে থাকা অযত্নে।
যা মূল্যবান তাকে না দেখা,
যা আঘাত দেয় তাকে এড়িয়ে যাওয়া,
যা তুচ্ছ মনে হয় অথচ কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে—
তাকে অবহেলায় অগ্রাহ্য করা—
এগুলোই ক্ষয়ে দেয় বন্ধন।

পরিচ্ছন্নতা, যত্ন, মনোযোগ আর সাড়া—
ভালোবাসার অলঙ্কার নয়—
ভালোবাসারই ব্যাকরণ, তার শ্বাস, তার ব্যঞ্জনা।
কারোর জন্য অগোছালো শরীর কিংবা নোংরা ঘর
শুধু বিশৃঙ্খলা নয়—
তা মর্যাদার অপমান।
কারোর জন্য অবহেলিত আকাঙ্ক্ষা বা অস্বীকৃত আবেগ
শুধু ভুলে যাওয়া নয়—
তা সুপ্ত পরিত্যাগের দুঃসহ ক্ষত।

মানুষ দুর্বল নয় শক্তিতে,
মানুষ ভঙ্গুর উপলব্ধিতে।
আমরা বাঁচি স্বীকৃতির অণুতে,
ক্ষুদ্রতম সম্মতিতে খুঁজে পাই নিজের পরিচয়।
অঘোষিত প্রয়োজন চায় স্বীকৃতি,
অন্তর্লীন পছন্দ চায় সম্মান,
ক্ষণিক সিদ্ধান্তও খোঁজে মর্যাদা।

বিচ্ছেদ হঠাৎ ঘটে না কখনো—
এটি ধীরে ধীরে ফুরিয়ে যায় সচেতনতার আলো,
ক্ষয়ে যায় সাড়ার বুনন,
ম্লান হয়ে যায় সেই কোমলতা
যেখানে আর থাকে না যত্নের পরশ।

প্রতিটি সম্পর্ক এক জীবন্ত আয়না।
ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা—
এগুলো নিঃশেষ হয় না শপথের অভাবে,
এগুলো নিঃশেষ হয় সতর্কতার অভাবে।
এগুলো টিকে থাকে কেবল তখনই
যখন হৃদয় শেখে—
কোনো মুহূর্ত তুচ্ছ নয়,
কোনো সময় ক্ষণস্থায়ী নয়,
কোনো আকাঙ্ক্ষা এতই হালকা নয়
যে তাকে দেখা বা সম্মান দেওয়া যাবে না।

শেষ সত্যটি একটিই—
আমাদের ধ্বংস করে দূরত্ব নয়, অন্ধত্ব।
ভালোবাসা কখনো ঘৃণায় মরে না,
ভালোবাসা মরে—
অদেখা থেকে, অবহেলায় হারিয়ে গিয়ে।

কোন মন্তব্য নেই: