গত পঞ্চাশ বছরে
অনেক শব্দের অর্থ ঘুরে গেছে
একশো আশি ডিগ্রী ।
এককালে যা পরম শ্রদ্ধেয় ছিল
আজ তা পরিনত হয়েছে
সর্বাধিক হঠকারী উচ্চারণে ।
যেমন একটি শব্দ 'শহীদ' ।
বোকা অনুগামীদের
অন্ধ আবেগকে কাজে লাগিয়ে
সরকারী বন্দুকের সামনে
ঠেলে দিতে পারলেই
বিরোধী দলের কেল্লাফতে ।
যে সংসারগুলো হারালো টাটকা প্রাণ,
তাদের পুনর্বাসন কে
নিশ্চিত করবে না আর কোনও
রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন,
অথচ
মহা সমারোহে পালিত হতে থাকবে
বছর-বছর "শহীদদিবস" ।
তেমন আর একটি শব্দ 'বিপ্লব' ।
বিপ্লব যে একটা মুখোশ মাত্র,
যার আড়ালে একমাত্র চলে
ক্ষমতার অলিন্দে
গদিদখল-জনিত আস্ফালন
ও তার সুগুপ্ত, একতরফা অবৈধ প্রয়োগ,
সেকথা অতি-সাধারণ জনগনের
বুঝতে বাকি নেই আর ।
ভণ্ড নেতৃত্ব প্রমাণ করেছে -
লক্ষ লক্ষ তরুণদের
জীবনের মূল্যবান চৌত্রিশ বছরের
সমূহ বলিদানও
বাস্তবের মাটিতে
সামান্যতম "বিপ্লব" আনতে
নেহাতই অক্ষম ।
তিক্ত এই বাস্তবটি
অনস্বীকার্য রয়ে যেতেই হয়
শেষ অবধি জনমানসে ।
সেকালের স্বপ্নের "বিপ্লব" শব্দটিকে
নেহাৎই অকর্মন্যদের
পার্টির দাদাগিরি-জনিত
অবৈধ অত্যাচারের
দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস
একালে পরিনত করে ছেড়েছে
বাঁজা বাতেলাদের
পুনঃ পুনঃ, পূনর্মুষিক ভব,
সংগ্রামী বায়ুপ্রসবের হাস্যরসে ।
'ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র' - অপর একটি ভণ্ডামির
নিরাপদ আড়ত ।
বিগত পঁচাত্তর বছরে
এমন একটিও রাজনৈতিক দল আসেনি
এযাবৎ
যারা পাঁচ বছর বাদে বাদে
ভোট শিকারে নামেনি
বিশেষ ধর্মকে বিশেষরূপে তোল্লা দিয়ে ।
ভারতবর্ষে তাই
মানুষের সমৃদ্ধি যত না হয়েছে
স্বাধীনতার পরে,
মন্দির-মসজিদের সমৃদ্ধি ঘটেছে
তার ন্যূনতম দশগুণ অধিক ।
গরীবের প্রাপ্য দুবেলার আহার
তাদের না দিয়ে,
মানুষের তৈরী ঈশ্বর-আল্লার আড়ালে
তাদের তাবেদাররা
আশ মিটিয়ে চেটেপুটে খেয়েছে
সরল মানুষের মাথায় বসে ।
রাজনীতি আর ধর্মের আপোষী হাতমেলানো
মানুষকে বারংবার
যে মিথ্যাটি আখেরে বোঝাতে চেয়েছে,
সে হলো -
'ধর্মীয় কুসংস্কারের উপযোগিতার কাছে
মানবিকতার প্রয়োজন মূল্যহীন ।'
মানুষকে বোকা বানিয়ে গেছে হামেশা
আবার কখনো পারেওনি ।
.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন