মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

প্রেম - প্রবৃত্তি মাত্র, চেতনা না

প্রেমে পড়া মানেই ভালবাসা না ।

প্রেমে পড়া বলতে সাধারণতঃ - 
প্রবৃত্তির দ্বারা
একটি মোহ-জনিত কল্পনায় আঁকা
শারীরিক কামনার মিলনময় আল্পনা ।
ভালবাসা আখেরে অতও সহজ না ।

ঔৎসুক্য যে গভীর অবধি গেলে,
একসময়ে 
সুরের মিল খুঁজে পাওয়ার সুবাদে,
ভাবের প্রত্যক্ষ অনুরণনের দ্বারা
ক্রমশ তীব্রতর ব্যক্তিত্বের মন্থনে,
অপর মানুষটির উৎসে উদ্ভুত
যাবতীয় ভাল গুণের সমন্বয়কে 
এক এর পর এক 
নিজেতে সাইফন করে
চিরতরে আত্মস্থ করে নিতে পারা
বাস্তবে সম্ভব করতে পারে -
সমর্পণ-জনিত প্রাণের সঙ্গম
সেই অব্যর্থ অভেদে না পৌঁছালে
ভালবাসার 
আদপে কোনও মানে থাকে না ।

প্রবৃত্তির গতানুগতিক স্বার্থ-প্ররোচিত
ভেজাল ও ফাঁকির নেট রেজাল্ট 
অপদার্থতার অবধারিত প্রসবে,
কয়েক বার মাত্র
সুযোগ খুঁজে শুয়ে পড়লেই
আবশ্যিক ভাবে ক্ষান্ত দিতে পারে  ।
এর অধিক এগোনোর
পরিসর অথবা উপায় প্রেমের থাকে না ।

প্রসঙ্গতঃ,
ভালবাসার নামে বিছানা কাঁপিয়ে,
বাস্তবে, একটিবারও 
পরাণে অথবা আত্মিকে
কোনও স্থায়ী অর্জন সম্ভব না ।

ভালবাসা ভেবে, 
ভালবাসার মত দেখতে,
যা পড়ে থাকতে পারে, 
সে হলো বড়জোর
মোহ-জনিত ঢ্যাঁড়স-পনা,
আর তার অলীক বেচা-কেনায়
সময়ের হাস্যকর অপচয়-জনিত 
ভবিতব্যের দেনা ।

( এক্ষেত্রে মোহ বলতে বোঝায় -
শান্তিনিকেতনী 
পিছনের সারির অযোগ্যরা, 
"গুরুদেব" উচ্চারণ করতে করতে
যেমন প্রায়শই মূর্ছা যান, 
তেমনটি চেনা ।

অথচ,
কবির বিরল প্রতিভার 
কোনও একটিমাত্র বিশেষ দিক নিয়ে 
সামান্য স্বচ্ছ ধারণা দাবী করলে,
ওমনি ইনিয়ে-বিনিয়ে
এমন ঘেঁটে-ঘ করে ছাড়েন তারাই, 
যে শ্রোতার বাধ্য হয়ে
"ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি" 
গোত্রের দশা উপস্থিত হতে হয়,
একথা, দেরীতে হলেও, জানা ।

এই মোহের ধরণটিও ঠিক তেমনই কিনা !

কোন মন্তব্য নেই: