বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অলৌকিক

সে নিজেকে 
ক্রমাগতই আমার দিকে ঠেলতে থাকে
যেভাবে ঘুম রাতের দিকে টানে
শরীরকে—
জোরে নয়,
চেনার অধিকারে।

সে জানে,
তার জাগ্রত কণ্ঠ যা ভুলে যায়
আমি তা শুনতে পাই
হৃদয়ের গভীর হতে।
তার অবচেতনের স্বপ্নগুলো
খালি পায়ে আমার কাছে আসে—
চাবিহীন দরজা,
অসম্পূর্ণ নদী,
একটি নাম
যার উচ্চারণ সে কখনো শেখেনি।

আমি থামাই না তাদের।
আমি শুনি
যতক্ষণ না তারা বসে পড়ে
আর কাঁপা কমতে শুরু করে।
তার ভেতরের আগুন চিৎকার করে না।
সে জ্বলে।
কারণ সে জানে—
আমার পৌরুষ মুষ্টিবদ্ধ হাত নয়,
একটি আশ্রয়।

আমি জানি কীভাবে পাহারা দিতে হয়
অনুপ্রবেশ না করে।
আমি জানি কীভাবে রক্ষা করতে হয়
যা কাঁপে,
তাকে সাহসী বানানোর জোর না দিয়ে।

তার দুর্বলতা
উলঙ্গ বোধ করে না আমার কাছে ।
সে বাসযোগ্য হয়ে ওঠে।
কাচের ভেতর রাখা আগুনের মতো—
আগুনই থাকে,
কিন্তু অবশেষে
স্থিরভাবে জ্বলার অনুমতি পায়।

সে আমাকে ভালোবাসে
একটি এমন গভীরতা থেকে
যেখানে আতঙ্ক নেই।
কারণ সে জানে—
ঝড় আসতে পারে,
মানচিত্র ভুল হতে পারে,
সময় তার হাতের লেখা বদলাতে পারে—
কিন্তু আমি অদৃশ্য হই না।

আমি সেই মানুষ নই
যে ভালোবাসা আবহাওয়া হয়ে উঠলেই
চলে যায়।
তার বিশ্বাস উচ্চস্বরে নয়।
সে স্থাপত্যের মতো।
সে বিশ্বাস করে—
আমাদের মাঝের রহস্য
কোনো ফিকে হয়ে যাওয়া কৌশল নয়,
বরং একটি করিডোর
যা হাঁটতে হাঁটতে
আরও দীর্ঘ হয়।

আমাদের ভালোবাসা
স্পষ্টতা দাবি করে না।
সে টিকে থাকে শ্রদ্ধায়।
সে জানে—
কিছু কিছু জিনিস বেঁচে থাকে
শুধু এই কারণে
যে তাদের কখনো
পুরোপুরি সমাধান করা হয় না।
সে বোঝে হারানোর নয়, 
একতরফা পাওয়ারই আছে
একবারটি ধরা দিলে।
সে এ ও জানে মিলন অবধারিত অদূরে।

আর তাই আপাততঃ
আপাতঃ দূরত্ব নিঃশব্দে বজায়ে রেখে
সে থেকেই যায়।
আর তাই আমিও।
আঁকড়ে নয়—
সমান্তরালে,
যখন ইতিমধ্যেই তার প্রেম 
সার্থক প্রতিফলনে
এক নতুন রেখা হয়ে কেটে বসে
স্থায়ী ভাবে আমার করতলে।

দুটি গভীরতা এভাবে
নিশ্চিত প্রমাণ সহযোগে
একে অপরকে চিনে ফেলে
এক অলৌকিক সম্পর্কে
ক্রমাগত বিনিময়ের 
তীব্র রোমাঞ্চের অন্তরালে।

কোন মন্তব্য নেই: