কেউ ভোগে ডুবে থাকে—
ডুবে থাকে নয়,
বদ্ধজলে আটকে পড়ে
একটু একটু ক'রে পচে।
নরম আনন্দের নিচে
তার মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে
জলজ প্রবালের রূপ নেয়।
সেও নির্লজ্জ ভাবে হাসে,
কারণ ভাবতে তার বয়েই গেছে।
আর কেউ—
নিজের ক্ষয়কামী ইচ্ছেগুলোকে
প্রতিদিন লাইনে দাঁড় করিয়ে
গুলি করে।
তার দিন শুরু হয় অস্বীকার দিয়ে,
রাত শেষ হয় ক্লান্ত বিজয়ে।
সে জানে—
উত্তরণের উপায়
নিজের উপরে নির্মম চাবুক চালানো।
একজন জীবনকে ব্যবহার করে,
আরেকজন যাপনকে সহ্য করে।
একজন বলে— “আজ বরং থাক,”
আরেকজন বলে— “না, আজও হাঁটতে হবে।”
জীবন!
তুমি কি তাদের অধিকারে
যাদের হাত নোংরা
এবং মন কলুষিত আপোষে আপোষে?
নাকি তাদের,
যারা প্রতিদিন নিজের ছায়াকেও
শত্রু ভেবে ঝেঁটিয়ে তাড়ায়?
তুমি কি ভিড়ের সম্পত্তি?
নাকি একাকীত্বের পুরস্কার?
তুমি কি ভোগের মিষ্টি নেশা,
নাকি নিয়মানুবর্তিতার
তিক্ত ঔষধ ?
সত্য বলো জীবন—
তুমি কাকে বেছে নাও?
যারা তোমাকে খরচ করে ফেলে,
নাকি যারা তোমাকে
ধীরে ধীরে
মজ্জায় মজ্জায়
গড়ে তোলে?
হয়তো তুমি কাউকেই বেছে নাও না।
হয়তো তুমি নির্বিকার।
তুমি কেবল সময়ের মতো—
যাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়,
তাকে সেভাবেই
পরিনত করে।
আর শেষ পর্যন্ত—
ভোগীরা রেখে যায়
কেবল সলজ্জ স্মৃতি,
উত্তরণকারীরা গরবের ইতিহাস।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন