হাগার পরে
পৃথিবীর আর কোনো প্রাণীর পোদে
গু লেগে থাকে না।
বাঘ ঘষে জঙ্গলে,
হরিণ ঝরনায়,
পাখি আকাশেই ঝেড়ে নেয়
নিজের সব অপবিত্রতা।
শুধু মানুষ— না জল পেলে
সে হাঁটে সভ্যতার রাস্তায়
পোশাকে লুকানো পচন নিয়ে,
লজ্জাকে ডিওডোরেন্ট বানিয়ে।
মানুষের গু
শুধু শরীরের নয়—
চিন্তার,
ক্ষমতার,
নৈতিকতার।
সে হাত ধোয়,
কিন্তু মন ধোয় না।
সে স্নান করে প্রতিদিন,
কিন্তু আত্মা দুর্গন্ধে ফেঁপে থাকে
শতাব্দীর পর শতাব্দী।
সভ্যতা নামের প্যান্টে
সে লুকিয়ে রাখে
লোভের দাগ,
হিংসার শুকনো স্তর,
আর ইতিহাসের জমাট মল।
অন্য প্রাণীরা হত্যা করে ক্ষুধায়,
মানুষ হত্যা করে যুক্তিতে।
তাই তাদের পোদ পরিষ্কার,
আর মানুষের—
চিরকাল নোংরা।
হাজার বছর পেরিয়েও
মানুষ শেখেনি
নিজের পিছনটা দেখতে।
আয়না বসায় সামনে,
পিছনে জমে থাকে অবাঞ্ছিত সত্য।
এই পৃথিবীতে
সবচেয়ে বিপজ্জনক দূষণ
পারমাণবিক নয়,
প্লাস্টিক নয়—
মানুষের অস্বীকার।
আর তাই হাগার পরে
পৃথিবীর আর কোনো প্রাণীর পোদে
গু লেগে থাকে না,
শুধু মানুষই
নিজের লুকানো মলকে
সভ্যতা বলে ডাকতে শেখে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন