ভালোবাসা
মুখের ভেতর
ছোট ছোট ঘর বানিয়ে যায়—
প্রতিশ্রুতির ঘর,
সযত্নে ঝাঁট দেওয়া,
যার জানালাগুলো
ঋতুর প্রতীক্ষায় বসে থাকে—
যেন অপেক্ষাকেই
আগমন বলে ভুল করেছে।
আর প্রেম করা—
সে তো সেই ঘর,
যে হঠাৎ মনে করতে পারে,
একদিন সে ছিল
একটি অরণ্য।
সে সেই কুঠার,
যে গাছকে
ক্ষমা করে দেয়।
সে সেই তুষার,
যে উল্টো দিকে ঝরে,
কারণ শোক
ভুলে গেছে
মাটির দিক কোনটি।
আমাকে অনন্তের কথা বোলো না।
আমি দেখেছি,
অনন্ত
পাকা ফলের ভেতর
নিঃশব্দে পচে যেতে।
তার উজ্জ্বল কঙ্কাল
আমি হাতে তুলে নিয়েছি,
যতক্ষণ না আলোও
ক্লান্ত হয়ে পড়েছে
আলো হওয়ার ভান করতে করতে।
তার বদলে আমাকে দাও
সেই ক্ষণ,
যখন তোমার নাম
তোমার শরীর থেকে
খসে পড়ে
এক আহত পাখির মতো—
যে আর
পাখি হয়ে থাকতে পারে না।
আমাকে নিয়ে চলো
সেই অসম্ভব দেশে,
যেখানে তোমার নিঃশ্বাস
আমার ভেতরে ঢোকে
বাতাস হয়ে নয়—
একটি ঋতু হয়ে।
যেখানে আমার পাঁজর
পরিত্যক্ত উপাসনালয়ে রূপ নেয়,
আর তোমার নীরবতা
বাজিয়ে তোলে
সেই সব ঘণ্টা,
যাদের ভাষা
অনেক আগে
মাটিচাপা দিয়েছিল।
চাঁদ
আমাদের দেখে না।
সে তার
সাদা হৃদয়টি খুলে
রেখে দেয়
আমাদের দুই ছায়ার মাঝখানে।
সেখানে
হৃদয়টি
স্পন্দিত হতে শুরু করে।
ধীরে।
এমন ধীরে,
যেন সময়
নতুন করে শিখছে
রক্তক্ষরণ।
প্রতিটি চুম্বন
পৃথক থাকার
একটি অপূর্ব ব্যর্থতা।
প্রতিটি স্পর্শ
একটি নতুন বর্ণমালা,
যে নিজেকেই
পুড়িয়ে ফেলে,
পড়ে ওঠার
আগেই।
আমরা
এক হয়ে যাই না।
সে তো
অতি সামান্য
এক অলৌকিকতা।
আমরা হয়ে উঠি
সেই ক্ষত,
যার মধ্য দিয়ে
মহাবিশ্ব
অবশেষে মনে করতে পারে,
তারও
একটি শরীর আছে।
ভোর আসে
ধোয়া হাত নিয়ে।
সে খুঁজতে থাকে
সেই দুই মানুষকে,
যারা
অন্ধকারে প্রবেশ করেছিল।
কিন্তু পায়—
ধোঁয়া ওঠা
তারার এক মাঠ,
একটি গাছের ডালে
ঝুলে থাকা
দুটি শূন্য নাম—
যে গাছ
কখনও রোপণই করা হয়নি—
আর পায়
ঈশ্বরের বিস্মিত নীরবতা,
যখন তিনি আবিষ্কার করেন—
অনন্তকালও
আর জুড়ে দিতে পারে না
যা
কোমলতা
একবার
ভেঙে দিয়ে
নতুন করে সৃষ্টি করেছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন