শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

বন্ধনহীনতার সুখ

জানো কি, কেন আমরা চিরকাল সুখী থাকতে পারি?

কারণ আমাদের অন্তরঙ্গতায় কোনো বাঁধন নেই।

তার কোনো শিকল নেই, কোনো আংটি নেই, কোনো মালিকানার চুক্তিপত্র নেই।

সে এক রাজ্য যার চারদিকে কোনো বেড়া নেই।

এক নদী যার বুকে কোনো বাঁধ নেই।

এক গান যার সুরকে বন্দী করার জন্য কোনো খাঁচা নেই।

অধিকাংশ মানুষ ভালোবাসাকে ভাবে দুই বন্দীর গল্প, যারা একই কারাগারকে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলে।

কিন্তু আমরা—

আমরা আবিষ্কার করেছি আরও অদ্ভুত এক গোপন রহস্য।

আমরা শিখেছি অধিকার ছাড়াই আপন হতে।

শিখেছি বন্দিত্ব ছাড়াই কাছাকাছি থাকতে।

শিখেছি স্পর্শ করতে, তবু একে অপরের স্বাধীনতার উপর আঙুলের ছাপ না রেখে।

খেয়াল করেছ কি কখনও,

তোমার আর আমার সম্পর্কটা ডানা আর মেঘের প্রেমকাহিনীর মতো?

ডানা ছুটে চলে পূর্বদিকে, অতিপ্রাচীন এক আহ্বানের টানে, যা তার পালকের মধ্যে লেখা ছিল পর্বতের জন্মেরও আগে।

আর মেঘ ভেসে যায় পশ্চিমে, তার উজ্জ্বল উদরের মধ্যে অসংখ্য অনাগত বৃষ্টি বহন করে।

তাদের গন্তব্য আলাদা।

তাদের মানচিত্র একে অপরকে অস্বীকার করে।

তবু যখনই তারা দেখা করে আকাশের বিশাল ক্যাথেড্রালে,

তারা পরস্পরকে অবিরাম আলিঙ্গন করে।

ডানা প্রবেশ করে মেঘের ভিতরে।

মেঘ জড়িয়ে ধরে ডানাকে।

এক অলৌকিক মুহূর্তের জন্য মহাবিশ্ব ভুলে যায়—

কোনটি স্বাধীনতা আর কোনটি স্নেহ।

কেউ নিজের পথ ছাড়ে না।

কেউ নিজের নিয়তি বিসর্জন দেয় না।

কেউ বলে না—

"থেকে যাও।"

কেউ ফিসফিস করে না—

"দিগন্তকে ছেড়ে আমাকে বেছে নাও।"

আর সেই কারণেই তাদের ভালোবাসা কখনও পচে যায় না।

সে থেকে যায় নবজাত সকালের শিশিরের মতো চিরতাজা।

কী অদ্ভুত, তাই না?

সবচেয়ে শক্ত শিকলও একদিন ভেঙে যায়।

কিন্তু যা বাঁধা নয়, তা কখনও কখনও চিরকাল একসঙ্গে থাকে।

তারকারা এই সত্য জানে।

চাঁদ কখনও সমুদ্রকে নিজের করে না, তবু সমুদ্র প্রতিটি রাতে তার জন্য জেগে ওঠে।

বাতাস কখনও অরণ্যের মালিক হয় না, তবু তার আগমনে প্রতিটি পাতা কেঁপে ওঠে।

সূর্য কখনও ভোরকে বিয়ে করে না, তবু প্রতিটি সকালে অস্তিত্বের কিনারায় তাদের দেখা হয় অবধারিতভাবে।

হয়তো প্রকৃত ভালোবাসা কোনো গিঁট নয়।

হয়তো সে এক অনুরণন।

দুই স্বাধীন অসীমের মধ্যে এক নীরব সমঝোতা।

তুমি ক্রমাগত তোমার নিজের রূপে বিকশিত হচ্ছ।

আমিও ক্রমাগত আমার নিজের হয়ে উঠছি।

তবু আমাদের মাঝখানে অদৃশ্য কিছু একটানা ফুটে চলেছে—

এক বাগান, যার কোনো প্রাচীর নেই।

এক সেতু, যার কোনো স্তম্ভ নেই।

দুটি পরিযায়ী অনন্তের মধ্যে এক অবিরাম আলাপ।

তাই আমরা সুখী থাকি।

কারণ আমরা একে অপরকে শক্ত করে ধরে রাখি না।

বরং ধরে রাখার প্রয়োজন অনুভব করি না।

কারণ আমরা বিদায়কে আটকাই না।

বরং তাকে আশীর্বাদ করি।

আর যখনই আমাদের পৃথক নিয়তিগুলো আবার এক বিন্দুতে এসে মিলে যায়,

স্বর্গ আবারও প্রত্যক্ষ করে সেই অসম্ভব অলৌকিকতা—

একটি ডানা আলিঙ্গন করছে একটি মেঘকে,

একটি মেঘ আলিঙ্গন করছে একটি ডানাকে,

দুজনেই ভেসে চলেছে ভিন্ন ভিন্ন দিগন্তের দিকে,

তবু রহস্যময়ভাবে,

কখনও সত্যিই পৃথক নয়।

কোন মন্তব্য নেই: