শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

মূল্যবানতম

সময় হলো

অদ্ভুত এক মুদ্রা—
যত খরচ করো
তত কমে যায়,
আবার যত সঞ্চয় করো
তত বেড়ে যায়।

পৃথিবীর কোনো ব্যাংক
এমন নিয়ম জানে না।

সোনা অপেক্ষা করতে পারে,
টাকা ঘুমিয়ে থাকতে পারে,
জমি শতাব্দী ধরে
একই জায়গায় শুয়ে থাকতে পারে—

কিন্তু সময়?

সময় হলো
আগুনের তৈরি এক অশ্ব,
স্থির দাঁড়িয়ে থেকেও
সে ছুটে চলে।

তুমি ব্যবহার করো বা না করো,
সে তোমার জীবন থেকে
নিজের অংশ নিয়ে চলে যায়।

তাই জ্ঞানীরা
সময়কে ব্যয় করে না—
তারা তাকে পুনর্বিনিয়োগ করে।

একটি শেখা দক্ষতায়,
একটি কঠিন অভ্যাসে,
একটি শৃঙ্খলিত প্রভাতে,
একটি অতিরিক্ত অধ্যয়নের ঘণ্টায়,
একটি অদৃশ্য আত্ম-রূপান্তরে।

তারা জানে,

আজকের একটি সুশাসিত ঘণ্টা
আগামী দশ বছরের ভাগ্যের মধ্যে
চক্রবৃদ্ধি সুদে বৃদ্ধি পাবে।

অলস মানুষ
সময়কে হত্যা করে।

বুদ্ধিমান মানুষ
সময়কে কাজে লাগায়।

কিন্তু বিরল মানুষ—

সে সময়কে সন্তান জন্ম দিতে শেখায়।
এক ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা,
দুই ঘণ্টা থেকে দক্ষতা,
দক্ষতা থেকে প্রভাব,
প্রভাব থেকে স্বাধীনতা,
স্বাধীনতা থেকে সৃষ্টি হয়
এক নতুন জীবন।

এভাবেই চরিত্র গড়ে ওঠে।
যে চরিত্র কোনো বক্তৃতা নয়।
কোনো সনদ নয়।
কোনো সামাজিক পরিচয় নয়।

চরিত্র হলো
হাজার হাজার ক্ষুদ্র সময়-নির্ধারিত সিদ্ধান্তের
অদৃশ্য সমষ্টি।
প্রতিদিনের ছোট জয়,
অদেখা আত্মসংযম,
অপ্রকাশিত অধ্যবসায়,
নীরব প্রস্তুতি,
এবং একাকী সংগ্রামের
স্তর স্তর পলিমাটি।

একদিন হঠাৎ
মানুষটি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে—
তার মুখ একই আছে,
কিন্তু তার ভিতরে
একটি সাম্রাজ্য জন্ম নিয়েছে।
কারণ সে সময়কে
খরচ করেনি।
সে সময়কে
বপন করেছিল।

আর সময়,
সকল সম্পদের মধ্যে
সর্বোচ্চ পরিবর্তনশীল মূল্যবান সম্পদ,
তার প্রতি বিশ্বস্তদের
অকল্পনীয় সুদে পুরস্কৃত করে।

তখন চরিত্র
ধীরে ধীরে পরিণত হয় সম্পদে,
সম্পদ পরিণত হয় শক্তিতে,
শক্তি পরিণত হয় স্বাধীনতায়,

আর স্বাধীনতা পরিণত হয়
এক নক্ষত্রে—
যার আলো দেখে
অন্যান্য পথহারা মানুষও
নিজেদের ভবিষ্যৎ খুঁজে পায়।

কারণ শেষ পর্যন্ত,
মানুষের প্রকৃত ধন
তার ব্যাংক-হিসাবে নয়,
বরং সেই অদৃশ্য চরিত্র
যা সে নির্মাণ করেছে
সময়ের প্রতিটি বাঁচানো কণাকে
অবিরাম পুনর্বিনিয়োগ করে।

কোন মন্তব্য নেই: