শুধু একবার তোমাকে ছোঁব—
একবার, শুধু একবার,
যেন সমস্ত জন্মের ভেতর ঘুরে বেড়ানো এক তৃষ্ণা
হঠাৎ নিজেরই উৎসে পৌঁছে যায়,
আর বিস্ময়ে থেমে থাকে—
আমি কি তবে এতদিন তোমাকেই খুঁজছিলাম?
সেই ঠোঁটজোড়া—
যারা ঝগড়া করে না
উপরে না নিচে ব’লে,
যারা উচ্চতার অহংকারে ওঠে না,
গভীরতার ভয়ে নামে না,
শুধু পাশাপাশি থাকে—
দুটি সমান্তরাল নিশ্বাসের মতো,
যারা একে অপরকে স্পর্শ না করেও
একই জীবনের ভার বহন করে।
তারা চিরকাল পাশাপাশি—
যেন এক অদৃশ্য প্রতিজ্ঞা
যা কখনো উচ্চারিত হয়নি,
তবু ভাঙেওনি কোনোদিন।
আর তারা ভিজে থাকে—
সর্বদাই ভালবাসায়,
যেন ভালোবাসা কোনো আবেগ নয়,
বরং এক স্থায়ী স্রোত,
যা ভেতর থেকে বাইরে নয়,
বরং বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকে
সবকিছুকে ভিজিয়ে দেয়
অপরিচিত এক উষ্ণতায়।
তোমার ঠোঁট—
একটি গোপন জ্যোৎস্না,
যাকে তুমি লুকিয়ে রাখো
অন্ধকারের আড়ালে,
যেন আলো তাদের স্পর্শ করলে
তারা ভেঙে পড়বে
নিজেদের অতিরিক্ত সত্যে।
যাদের তুমি যত্ন করে লুকিয়ে রাখো—
যেন কোনো সূর্য
তাদের উন্মোচন করতে না পারে,
যেন প্রকাশ মানেই ক্ষয়,
যেন দৃষ্টি মানেই
ভালবাসার অবসান।
তুমি তাদের আড়াল করো
নিজের নীরবতার পর্দায়,
যেখানে শব্দ ঢোকার আগেই
নিজেকে ভুলে যায়,
আর প্রতিটি অপ্রকাশিত অনুভূতি
নিজের পূর্ণতায় পৌঁছে যায়
অন্ধকারের সুরক্ষায়।
কখনও সূর্যের আলো দেখতে দেবে না ব’লে—
তুমি যেন প্রতিজ্ঞা করেছো
তাদের চিরকাল রক্ষা করার,
যেন কিছু জিনিস
শুধু অদেখাই থাকলে বেঁচে থাকে,
শুধু লুকিয়ে থাকলেই
অমর হয়।
আর তারা—
যারা জন্মেছেই
পৌরুষকে পাগল করবে বলে
গভীরতার আস্বাদনে—
তারা কোনো প্রলোভন নয়,
তারা কোনো দখলযোগ্য শরীর নয়,
তারা এক গভীর আহ্বান,
যেখানে ডুব দিলে
ফিরে আসা যায় না আগের মতো।
তাদের ভেতরে আছে
এক অতল নিমন্ত্রণ,
যা চোখে দেখা যায় না,
তবু অনুভূত হয়—
মেরুদণ্ডের ভেতর দিয়ে
একটি শিহরণ হয়ে।
আমি সেই শিহরণে ডুবতে চাই—
একবার,
শুধু একবার,
যেন নিজের ভেতরের সমস্ত স্থিরতা
ভেঙে পড়ে
এক অচেনা অস্থিরতায়।
একবার ছোঁয়া মানে—
নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়,
বরং নিজের অজানা দিকগুলোকে
হঠাৎ চিনে ফেলা,
যেন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
দেখা—
এই আমি নই,
তবু এই আমিই।
তোমার ঠোঁটের ভেতরে
আমি হয়তো খুঁজে পাবো
একটি গোপন গভীরতা,
যেখানে পৌরুষ মানে শক্তি নয়,
বরং ভেঙে পড়ার সাহস,
ডুবে যাওয়ার ইচ্ছা,
আর নিজেকে সমর্পণ করার
অদ্ভুত এক স্বাধীনতা।
সেই গভীরতার স্বাদ—
একবার পেলেই
ফিরে আসা যায় না উপরে,
কারণ উপরের সবকিছু তখন
অত্যন্ত হালকা,
অত্যন্ত অগভীর মনে হয়।
আর যদি সেই একবার ছোঁয়া ঘটে—
তবে হয়তো আমি আর আমি থাকবো না,
তুমি আর তুমি থাকবে না—
আমরা দুজনই মিশে যাবো
একটি অদৃশ্য স্রোতে,
যেখানে কোনো পরিচয় নেই,
কোনো পৃথকতা নেই,
শুধু এক অন্তহীন অনুভূতির বিস্তার।
আর যদি না-ও ঘটে—
যদি সেই ঠোঁটজোড়া
চিরকালই লুকিয়ে থাকে
তোমার যত্নের অন্ধকারে—
তবু এই আকাঙ্ক্ষা
একটি অসমাপ্ত ডুব,
যা কখনো শেষ হয় না,
যা ক্রমাগত গভীরতর হয়—
ঠিক সেই ঠোঁটজোড়ার মতো,
যারা ঝগড়া করে না,
শুধু পাশাপাশি থাকে,
ভিজে থাকে ভালবাসায়,
লুকিয়ে থাকে আলো থেকে,
আর জন্মেছে—
পৌরুষকে
পাগল করে দেওয়ার জন্য
সুনিবিড় আলিঙ্গনে
এক অনন্ত গভীরতার স্বাদে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন