শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

গল্প

সময় আপন খেয়ালে নিজেকে ভাঙে, গড়ে—
কখনও মাটির ভাস্কর, কখনও জলোচ্ছ্বাস,
কখনও আবার এক অদৃশ্য লেখক,
যে নিজেরই শরীরে লেখে তার অদেখা আত্মজীবনী।

তার আঙুলে কালি নেই—
আছে ভাঙনের ধুলো,
আছে গড়নের ঘাম,
আছে অনন্ত অপেক্ষার নোনা গন্ধ।

প্রতিটি মুহূর্ত একেকটি বাক্য,
যা লেখা হয় ভাঙা আয়নার ওপর,
যেখানে প্রতিফলনগুলোও নিজেদের চেনে না,
তবু গল্প থেমে থাকে না—
বরং আরও অস্পষ্ট, আরও গভীর হয়ে ওঠে।

যাদের পড়বার,
তারা ঠিকই ধৈর্য ধরে পড়ে—
তারা শব্দের আড়ালে শোনে নীরবতার উচ্চারণ,
তারা বুঝতে পারে কেন এক ফোঁটা সময়
হঠাৎ মহাবিশ্বের মতো ভারী হয়ে ওঠে।

তাদের চোখে সময় কেবল স্রোত নয়,
বরং এক গোপন দরজা,
যার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকে সম্ভাবনার নগ্ন সত্য—
অপেক্ষায়, অচঞ্চল, অনাহূত।

আর বাকিদের—
নজর পিছলে যায়,
যেন ভেজা পাথরের ওপর হেঁটে চলা,
যেন হাত বাড়িয়েও ছুঁতে না পারা
অমূল্য কোনো স্বপ্নের কাঁধ।

তারা দেখে, কিন্তু দেখে না,
ছোঁয়, কিন্তু স্পর্শ করে না—
দুর্লভ সুযোগগুলো তাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে
অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে,
আর তারা তখনও ব্যস্ত থাকে
নিজেদের ব্যর্থ প্রচেষ্টায়।

সময় তখন হেসে ওঠে—
একটি ভাঙা ঘড়ির কাঁটার মতো বেঁকে গিয়ে,
নিজেকেই আবার নতুন করে গড়তে গড়তে
লিখে ফেলে শেষ লাইনটি—

যা বাকিরা পড়ে না,
কারণ সেটি লেখা থাকে
পড়ে ফেলা মানুষের চোখের ভেতর।

কোন মন্তব্য নেই: