তুমি হাঁটতেই থাকবে
এমন সব রাস্তায়,
যেগুলো ঘুরে ফিরে
তোমার নিজের পদচিহ্নেই এসে মিশে যায়—
তবু তুমি তাকে বলবে নিয়তি,
তাকে বলবে ভাগ্য,
তাকে বলবে “এটাই স্বাভাবিক,”
আর দেয়ালগুলো নীরবে বদলে নেবে নিজেদের
তোমার দ্বিধার সঙ্গে তাল মিলিয়ে।
তোমার সকালগুলো আসবে আধাখাঁচা হয়ে—
যেন না-পাঠানো চিঠি,
যেন সূর্য নিজের ঠিকানাই ভুলে গেছে।
তুমি সময়কে চুমুক দিয়ে খাবে
যার স্বাদে লেগে থাকবে
“প্রায়,”
“হয়তো,”
“কাল বুঝব”—এর হালকা তিতকুটে গন্ধ।
আর আয়নাগুলো—
আহ, আয়নাগুলো মৃদু ষড়যন্ত্র করবে—
ওরা মিথ্যে বলবে না,
শুধু ঝাপসা করে দেবে
সেই এক প্রশ্নটাকে
যেটা তুমি বারবার পিছিয়ে দাও,
যেন স্পষ্টতা এক ক্ষত
যাকে ছুঁতে তোমার ভয় লাগে।
তোমার বুকের ভেতরে কোথাও
একটা জেদি কম্পাস
অবিরাম ঘুরতেই থাকবে—
পৃথিবীতে উত্তর নেই বলে নয়,
বরং তুমি নিজেই থামতে চাও না
তার কাঁপুনি অনুভব করার জন্য।
তুমি প্রেমে পড়বে বিভ্রান্তির—
ঝলমলে, বাধ্য মায়ার,
যারা হাততালি দেয়
যখনই তুমি নিজেকে ভুলে যাও।
ওরা তোমাকে মুকুট পরাবে—
বিলম্বের রাজা,
অসমাপ্ত শুরুর সাধু—
আর তুমি কৃতজ্ঞ হয়ে মাথা নোয়াবে
অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রশংসায়।
এদিকে তোমার উদ্দেশ্য—
সে নীরব, অযৌক্তিক আগুন—
তোমার স্বপ্নের কিনারায় বসে থাকবে
অবাঞ্ছিত অতিথির মতো,
যে তোমার আসল নাম জানে
কিন্তু ডেকে ওঠে না।
আর একদিন,
সময় আর ভদ্রভাবে কড়া নাড়বে না।
সে ঢুকে পড়বে আবহাওয়ার মতো—
হঠাৎ, অনিবার্য—
তোমার ধার করা অজুহাতের ছাদ উড়িয়ে দিয়ে,
তোমার যত্ন করে রাখা দেরিগুলো
ছড়িয়ে দেবে শুকনো পাতার মতো
যেগুলো কখনোই তোমার ছিল না।
তখন, খালি পায়ে দাঁড়িয়ে
তোমার সব “প্রায়”-এর ধ্বংসস্তূপে,
তুমি অবশেষে শুনবে তাকে—
কোনো শব্দ হিসেবে নয়,
কোনো আদেশ হিসেবেও নয়,
বরং এমন এক চেনা অনুভূতি হিসেবে
যা মনে হবে
তুমি এক জীবনকে মনে পড়ছে
যা তুমি কখনো বাঁচোনি।
আর তখন তুমি বুঝবে—
খুব দেরিতে, বা ঠিক সময়ে—
তোমার জীবনে আসলে কিছুই তুচ্ছ ছিল না,
শুধু সেই একটাই—
তুমি বারবার বেছে নিয়েছিলে
জিজ্ঞেস না করতে
কেন তুমি জন্মেছিলে,
যখন বাকিসব
তোমার হয়ে উত্তর দিতে শুরু করেছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন