সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ছায়া

তোমার ছায়া কী ক্লান্ত
তোমাকে অনুসরণ করতে করতে?

দিনের পর দিন
সূর্যের কোণ বদলায়,
রাস্তার ধুলো বদলায়,
শহরের ভিড় বদলায়—
কিন্তু ছায়াটি
একটি নীরব কুকুরের মতো
তোমার পায়ের কাছে
চুপচাপ হাঁটতেই থাকে।

সে জানে তোমার সব থেমে যাওয়া,
সব নিঃশ্বাসের ভাঙা সিঁড়ি,
সব অর্ধেক স্বপ্ন
যেগুলো তুমি রাতের অন্ধকারে
ভাঁজ করে রেখে দিয়েছিলে।
হয়তো সে ক্লান্ত—
তোমার দুঃখের ভার টেনে নিতে নিতে,
তোমার দ্বিধার ধোঁয়া
নিজের শরীরে জমাতে জমাতে।

তাহলে
একবার ফিরে তাকাও
আর বলো তাকে—
“যাও,
আজ একটু বিশ্রাম নাও
কোনো গাছের শীতল গোড়ায়
বা কোনো পুরোনো দেয়ালের পাশে।”

তারপর
ছেড়ে দাও তাকে।
আর ধরো পরাণের হাত—
যে হাত রক্তের ভেতর
একটি ছোট সূর্যের মতো জ্বলছে।
বল—
“আমি আরও অনেক বেশি বাঁচতে চাই
বুক ভরে
যেন ফুসফুস দুটি
হঠাৎ সমুদ্র হয়ে গেছে।
আমি আরও অনেক বেশি হাসতে চাই
যেন হাসির শব্দে
পুরোনো দুঃখের জানালাগুলো
এক এক করে খুলে যায়।
আমি দৌড়াতে চাই
তোমার হাত ধরে—
ঘাসের উপর,
বাতাসের ভেতর,
আকাশের নীচে
যেখানে পৃথিবী এখনো
শিশুর মতো নতুন।”

চলো দৌড়াই—
যেন সময় আমাদের ধরতে না পারে,
যেন ঘড়ির কাঁটা
হঠাৎ পথ হারিয়ে ফেলে।
আর দূরে কোথাও
তোমার ক্লান্ত ছায়া
একটি গাছের নিচে বসে
মৃদু হেসে বলে—
“অবশেষে
তুমি বাঁচতে শিখেছো।” 🌿

কোন মন্তব্য নেই: