বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিলক্ষণ বিচক্ষণ

একজনের মনের সরোবর
যখন আর একজনের কাছে
সমুদ্রসম প্রতীত হয়—
তখনই ভালোবাসা
নিশ্চিন্তে সাঁতার কাটতে শেখে।
সেই সরোবরের জল
গভীর নয়— তবু গভীর মনে হয়,
কারণ সেখানে আকাশ ডুবে থাকে।
ঢেউ নেই, তবু জোয়ার আসে,
শুধু চোখের পাতার ওঠানামায়।

যে মানুষটি জানে
এটা সরোবর—
সে ভয় পায় না।
সে জানে কোথায় তল,
কোথায় কাদা,
কোথায় শ্যাওলা জমে থাকা স্মৃতি।
তবু সে বলে—
“এ সমুদ্র।”
এই বলাটুকুতেই
ভালোবাসার জন্ম।

ভালোবাসা তখন
লাইফজ্যাকেট পরে না।
ভালোবাসা তখন
গভীরতা মাপে না,
ডুবে যাওয়ার হিসেব রাখে না।
সে বিশ্বাস করে
জল তাকে গ্রহণ করবে।

সরোবরটি শুনে ফেলে—
তাকে সমুদ্র বলা হয়েছে।
সে নিজের সীমা ভুলে
আরও প্রশস্ত হতে চায়।
তার জল নোনতা হয় না,
কিন্তু ঢেউ শেখে
দূরের স্বপ্ন থেকে।
কখনো কখনো
একটু বেশি নড়াচড়ায়
তলদেশে কাদা ওঠে।
ভালোবাসা তখনও সাঁতার কাটে—
কারণ সে জানে
কাদা মানেই ডুব নয়,
এ কেবল মনের পা
মাটি ছুঁয়েছে তার প্রমাণ।

যেদিন কেউ এসে বলে—
“তুমি তো সমুদ্র নও,
তুমি তো ছোট,”
সেদিন জল স্তব্ধ হয়ে যায়।
আকাশ উঠে আসে তীরে।
ভালোবাসা ভিজে দাঁড়িয়ে থাকে—
সাঁতার ভুলে।

কিন্তু যতক্ষণ একজন
আরেকজনের ভেতর
সমুদ্র দেখতে জানে,
ততক্ষণ সরোবর
ডুবতে দেয় না কাউকে।
কারণ ভালোবাসা
গভীরতার নাম নয়—
প্রতীতির নাম।

কোন মন্তব্য নেই: