রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সুবিধাভোগী

পৃথিবীর কিছু জীবনের দিকে তাকিয়ে
তোমার হিংসা জাগে—
যাদের পথ ঘর্ষণহীন,
যেন তারা কড়া নাড়ার আগেই
দরজাগুলো খুলে যায়।
তাদের দিনগুলো কাঁদে না,
তাদের পকেটে সময়ে মরচে ধরে না।
দুর্ভাগ্য তাদের ছুঁয়ে যায়
রেশমে আটকে না থাকা বৃষ্টির মতো।

তুমি ভাবো—
নিশ্চয়ই কোনও গোপন আশীর্বাদ আছে,
তাদের পাঁজরের আড়ালে লুকোনো এক ঈশ্বর,
এক অদৃশ্য হাত
পথটাকে মসৃণ করে দিচ্ছে।
কিন্তু আরেকটু কাছে এসে দেখো।
তাদের ভেতর দিয়ে বয়ে চলে
এক ঘন, দীপ্ত স্রোত—
ভালবাসা, অনুভূতি নয়,
একটি পদার্থ।

ওটা তাদের সকালগুলোকে মুড়ে রাখে,
ভুলগুলোর ধার কমিয়ে দেয়,
তীক্ষ্ণ মোড়কে বাঁক বানায়।
ভালবাসা তাদের রক্তে গুনগুন করে
ইঞ্জিন গরম করা তেলের মতো—
ঝগড়া নরম হয়ে যায়,
ব্যর্থতা ভাঙে না, সরে যায়,
এমনকি শোকও শিখে নেয়
শরীর ছিঁড়ে না ফেলে চলতে।

তারা তোমার চেয়ে হালকা নয়।
তারা বেশি ভাগ্যবানও নয়।
তারা শুধু ভেজা।
গভীর ভালবাসা সারাক্ষণ
তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকে—
নিশ্বাসের মতো নীরব,
মাধ্যাকর্ষণের মতো বিশ্বস্ত।

ভয়ের বোল্টগুলো আলগা করে দেয় সে,
জীবনকে হাড়ে-হাড়ে ঘষা খাওয়া থেকে বাঁচায়।
তাই যখন তুমি দেখো
তারা ভেসে চলছে
আর তুমি টেনে নিয়ে যাচ্ছ নিজের পা,
তখন জেনে রেখো—
ওরা ওজন এড়িয়ে যায়নি।
ওরা শিখে নিয়েছে ওজন বহন করতে
ভক্তিতে পিচ্ছিল হয়ে ওঠা এক জগতে।

আর হয়তো একদিন,
যখন তোমার বুকেও ভালবাসা
দীর্ঘক্ষণ জমে থাকবে,
তোমার জীবনও চলতে শুরু করবে—
না আরও দ্রুত,
না আরও জোরে,
বরং আরও মসৃণভাবে,
যেন এই মহাবিশ্ব নিজেই
তোমাকে পথ ছেড়ে দিতে শিখেছে।

কোন মন্তব্য নেই: