ধর্ম আমাকে এমন কোনো অর্জন দেয়নি
যার ভারে আমি হঠাৎ ধনী হয়ে উঠি,
বা মানুষের সারিতে
সম্ভ্রান্ত নামে আলাদা করে ডাকা পড়ে।
সে আমার কপালে
কোনো রাজচিহ্ন আঁকেনি,
আমার হাতে তুলে দেয়নি
বংশের তালাবদ্ধ চাবি।
মানুষের ভিড়ে
আমি ছিলাম কেবলই একজন—
না উঁচু, না নিচু,
শুধু দাঁড়িয়ে থাকা
অসহায় একজন মানুষ।
বরং পরিশ্রম—
যে ধর্মগ্রন্থে ঘাম দিয়ে লেখা হয় প্রতিটি লাইন—
আর নিষ্ঠা—
যে নীরবে হাঁটে,
কিন্তু পিছু হটে না—
এই দু’জন আমাকে দিয়েছে
এক ভিন্ন ধরনের দীক্ষা।
সেই দীক্ষায়
আমি শিখেছি
ভোরের অন্ধকারে নিজের ভয়কে তুলে নিতে,
হাতুড়ির মতো ব্যবহার করতে
বারবার ভেঙে ফেলার জন্য
নিজেরই সীমাবদ্ধতা।
সাহস এসেছে
কোনো আশীর্বাদের মতো নয়,
বরং ক্ষত থেকে—
যেখানে ব্যথা দাঁত চেপে
নিজেকে শক্ত করে তোলে।
শক্তি এসেছে
কোনো মন্ত্রপাঠ থেকে নয়,
বরং পতনের পর
নিজের নাম ধরে উঠে দাঁড়ানোর অভ্যাস থেকে।
দুর্ভাগ্যগুলো তখন
শিকারির মতো ঘিরে ধরেছিল—
দারিদ্র্য, অবহেলা,
ভুল বোঝা পৃথিবী—
কিন্তু আমি শিখে গেছি
লড়াইকে প্রার্থনায় পরিণত করতে।
আজও আমি ধনী নই
মানুষের হিসাবখাতায়,
সম্ভ্রান্ত নই
তাদের সংজ্ঞার আলোয়।
কিন্তু আমার ভেতরে
একটি অবিনাশী সম্পদ আছে—
নিজের শ্রমে গড়া মেরুদণ্ড,
নিজের নিষ্ঠায় ধার করা আগুন,
যা কোনো দুর্ভাগ্যই
সহজে নিভিয়ে দিতে পারে না।
আর সেই অদম্য পরিচয়
কোনো পতাকার রঙে বাঁধা নয়,
কোনো শ্লোগানে মুখস্থ করা নয়—
এটি হাঁটে আমার সঙ্গে
প্রতিদিনের সাধারণ পথে।
যখন কিছুই থাকে না
ভরসা করার মতো,
আমি তখন নিজের পরিশ্রমকে ডাক দিই,
নিষ্ঠাকে পাশে বসাই,
আর নীরবে বলি—
চলো, আরেকটা দিন জয় করি।
দুর্ভাগ্য তখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে,
কারণ সে জানে—
আমি আশীর্বাদে ভাঙি না,
আমি অভিশাপে থামি না।
আমি তৈরি হয়েছি
পুনরাবৃত্ত চেষ্টা দিয়ে,
ভাঙা স্বপ্নের ধুলো মেখে,
নিজেকে নিজেই গড়ে তোলার
দীর্ঘ, অবিশ্রান্ত প্রক্রিয়ায়।
ধর্ম আমাকে সমাজে উঁচু করেনি,
কিন্তু শ্রম আমাকে
নিজের চোখে ছোট হতে দেয়নি।
আর পৃথিবীর মানচিত্রে
এই সত্যটি নীরবে জ্বলজ্বল করে—
কেবল পরিশ্রমী জাতিরাই
এই পৃথিবীতে
উন্নতির শিখরে উঠতে পারে।
এই দাঁড়িয়ে থাকাই আমার প্রার্থনা,
এই লড়ে যাওয়াই আমার বিশ্বাস—
আর এই পথচলাই
আমার একমাত্র,
অপরাজেয় সম্পদ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন