হতে পারে কেউ ভালবাসে তোমাকে
বিশ্বস্ত, নিবেদিত স্ত্রী হিসেবে—
ঘরের দরজায় যার নাম লেখা,
যার ছায়ায় তোমার পরিচয়
নিরাপদে রাখা।
কিন্তু তুমি প্রতিরোধহীন
প্রেমের কাছে—
যে প্রেম অনুমতি চায় না,
শপথ জানে না,
আইনের ভাষা বোঝে না।
সে প্রেম আসে
নিঃশব্দে,
নির্জনতার ভেতর দিয়ে,
তীব্র বাসনার সুযোগ নিয়ে,
একটি ঢেউয়ের মতো
যা উপকূলকে জিজ্ঞেস করে না
সে ভাঙতে চায় কি না।
তাই তোমার জীবন
ধীরে ধীরে অধিকার করে সে—
প্রথমে গর্ভে একটি জারজ,
তারপর আরেকটি,
তারপর আরেকটি—
তিনটি জন্ম,
তিনটি দরজা
যেখান দিয়ে তুমি নিজেকে
বাইরে পাঠিয়ে দাও।
প্রতিটি সন্তান
একটি করে শিকড়,
তোমার শরীরের ভেতর
ক্রীতদাসত্ব গেঁথে দেয়।
তোমার মেরুদণ্ডে
সময়ের ভার বসে,
তোমার নিঃশ্বাস
দায়িত্বের ভাষা শেখে।
এভাবে সে প্রেম
তোমাকে গ্রাস করে—
না হিংস্রভাবে,
না করুণায়,
বরং এক জীবনের মতো।
যেমন দিন গ্রাস করে সকালকে,
যেমন বয়স গ্রাস করে নামকে,
যেমন জীবন
নিজেই নিজের মালিকানা দাবি করে।
আর তুমি?
তুমি দাঁড়িয়ে থাকো
তিনটি হৃদয়ের মাঝখানে,
নিজের শরীরকে মনে হয়
একটি মানচিত্র—
যেখানে ফেরার পথ নেই,
শুধু এগিয়ে যাওয়া।
এটাই হয়তো
প্রতিরোধহীন প্রেমের শেষ রূপ—
যেখানে হারিয়ে যাওয়া নেই,
আছে রূপান্তর।
তুমি আর শুধু তুমি নও,
তুমি একটি সম্পূর্ণ জীবন
যা নিজেকে জন্ম দিয়েছে
বারবার
কামনার অনুগত দাস হিসেবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন