একদিন সন্ধেবেলা,
উথলে ওঠা চাঁদের আলোয় ভেসে,
একটি ছোট সাদা মেঘ
ধীরে ধীরে আমার দিকে ভেসে এলো—
তার গায়ে লেগে ছিল
স্বর্গীয় কোমল শীতলতার সুঘ্রাণ।
আরও কাছে আসতেই দেখলাম,
মেঘের নরম বুক চিরে ঝুলছে
একটা লম্বা সাদা দড়ি,
সেই দড়িতে বাঁধা এক মায়াবী দোলা—
যেন দেবতার নিজের হাতে
বোনা কোনও খাঁটি স্বপ্নের আসবাব।
নাগাল পেতেই
দোলনাটার সুতোর মোলায়েম দোল
আমাকে ডেকে নিল
এক অজানা পথে—
আমি তাতে উঠে বসলাম
এতোটা নিঃশব্দে
যেন সদ্য জাগা ফুলের গায়ে
একটা শ্বাস ফেলছি।
মেঘ একবারও থামল না—
মনে হলো থামা
তার ভাগ্যেই নেই।
ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল পৃথিবী,
মাটির সব রঙ,
সব চেনা শব্দ
ডুবে গেল দূরের অন্ধকারে।
হঠাৎ বুঝলাম
আমার পায়ের নিচে
আর কোনও জমিন নেই—
শুধুই ঢেউয়ের বিশাল নিস্তব্ধতা,
নীল অতল সাগর
তারকাদের আলোয় রুপালি হয়ে ভাসছে।
আর আমি—
আমি দুলছি সেই দোলনায়
আকাশের এক প্রান্ত থেকে
অন্য প্রান্তে,
যেন আমার হৃদয়টাই
হয়ে গেছে এক উড়ন্ত প্রদীপ,
চাঁদের গায়ে আলতো করে বাঁধা।
সন্ধ্যা আরও গভীর হচ্ছে,
আর আমি দুলতে দুলতে
শিখে ফেলছি—
কখনও কখনও
স্বপ্নের পথটাই
বাস্তবের চেয়েও বেশি সত্যি—
কারণ একখণ্ড সাদা মেঘও
কখনও কখনও পারে
একটি জীবনকে
অদ্ভুত আলোয় ভাসিয়ে দিতে।
হঠাৎ মাঝেমধ্যে শুনতে পাই
তুমি পিছন থেকে ডাকছো—
বলছো, “আমাকেও সঙ্গে নাও।”
কিন্তু আমি—
আমি আর কোনওভাবেই
ফিরে যেতে পারছি না
সেই পৃথিবীতে
যা আমি পেছনে ফেলে এসেছি
শেষবারের মত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন