সৌন্দর্যবোধ কেন আবশ্যিক পাঠ্য হবে না?
কেন শিশুরা ছোটবেলা থেকেই শিখবে না—
কীভাবে জীবনকে, দিনকে, মনের ভাঁজে জমে থাকা ধুলোকে
একটু একটু করে ঝেড়ে ফেলে
ক্রমশই আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে হয়?
কেন স্কুলগুলোয়
বই-খাতা-পাঠ্যসূচির পাশে
সৌন্দর্যের পাঠ থাকবে না—
যেখানে শেখানো হবে
কীভাবে নিজের ভেতরের জগৎটাকে
আলোয় ভরিয়ে তুলতে হয়,
কীভাবে অস্পষ্টতার মধ্যে থেকেও
একটি ছোট ফুলের মতো সৌন্দর্যকে চিনে নিতে হয়?
নিজের মনকে কীভাবে কোমল করা যায়,
রাগ-ক্ষোভকে কীভাবে জলীয় করে ছেড়ে দেওয়া যায়,
নিজের ঘরকে কীভাবে
স্বস্তির আকাশে পরিণত করা যায়,
এবং বাইরের পরিবেশকে
কীভাবে সবাই মিলে
অল্প একটু যত্নে, অল্প একটু শিল্পে
আরো বাসযোগ্য, আরো মানবিক করা যায়—
এ শেখার সুযোগ কেন মানুষের থাকবে না?
যদি সৌন্দর্য শেখানো যেত,
তবে মানুষ হয়তো আরো সহনশীল হতো,
বিতর্কে কম, আর নির্মাণে বেশি মন দিত।
হয়তো বন্ধ হয়ে যেত
অন্তহীন কোলাহল, হিংসা, অস্থিরতা।
কারণ যে মানুষ সৌন্দর্যকে বোঝে,
সে মানুষকে ধ্বংস করতে শেখে না—
সে শেখে শুধুই
গড়ে তুলতে, সংরক্ষণ করতে,
আরো ভালো কিছু রেখে যেতে।
তবে সৌন্দর্যের অভিমুখ
আজও পাঠ্যক্রমে নেই—
যেন এটি কোনো বিলাস,
অথচ বাস্তবে,
এটিই মানুষের সবচেয়ে অপরিহার্য প্রয়োজন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন