মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫

মূখ্য নয়

চেনা বিবাহিত জীবন যেদিন ক্লান্ত হয়ে পড়ে একঘেয়েমির দীর্ঘশ্বাসে,
মানুষের পরাণ সেদিন পা বাড়ায় অচেনার ঘাসে—
সেই ঘাসে লুকিয়ে থাকে এক অদৃশ্য আহ্বান,
যেন নিঃশব্দে কেউ ডেকে বলে,
“এসো, তোমার মধ্যে যে ঘুমিয়ে আছে মানুষটি, তাকে আবার জাগাও।”

অচেনা সেই প্রান্তরে বাতাসেরও ভিন্ন সুর—
তার মধ্যে আছে মুক্তির গন্ধ,
ভুলে যাওয়ার নয়, নিজেকে পুনরুদ্ধারের এক মায়াবী প্রলোভন।
চেনা সংসারের দিনগুলো তখন
সময়মাপা যান্ত্রিকতার মত ধ্বনিত হয়,
যেখানে ভালোবাসা থাকে, কিন্তু সুরের স্ফুলিঙ্গ নিভে যায় ধীরে ধীরে।

অভ্যাসের ধুলো নিয়ম করে না সরালে
সম্পর্ক চাপা পড়ে মারা যায় নিছক গতানুগতিকতায়—
যেমন জানালার কাচে জমে থাকা ধূলি
শেষমেশ ঢেকে ফেলে সকালবেলার আলো।

আর সেই নিভে যাওয়া সুরের সন্ধানেই
মানুষ একদিন পা বাড়ায় অনিশ্চিত তৃণে,
যেখানে প্রতিটি তৃণ যেন ফিসফিসিয়ে বলে—
“তুমি এখনো অনুভব করতে পারো,
তুমি এখনো আলোতে জেগে আছো।”

অচেনার টান কখনও পাপ নয়—
তা এক অনিবার্য আহ্বান,
যেখানে আত্মা নিজেরই পরিত্যক্ত অংশের সন্ধান পায়।
চেনা সঙ্গীর মুখে যখন অভ্যাসের ধুলো জমে,
তখন এক অচেনা হাসির আলোকছায়ায়
মানুষ টের পায়, ভালোবাসা এখনো মৃত্যুবরণ করেনি—
সে শুধু অপেক্ষায় ছিল,
একটি নতুন দৃষ্টির, একটি নতুন হৃদস্পন্দনের।

ভালোবাসায় আগ্রহের পুনর্জন্ম পেয়ে
মানুষ আবার নতুন করে হাসে—
যেন অনন্ত শীতের পর
প্রথম কুঁড়ি ফুটে ওঠে,
আর তার সুবাসে পৃথিবী জানে—
বেঁচে থাকা মানে শুধু নিঃশ্বাস নয়,
বরং অনুভব করা প্রতিটি শিহরণের অলৌকিকতা।

তবু, সেই অচেনা ঘাসেও থাকে কাঁটা—
তার রক্তিম শিহরণ স্মরণ করিয়ে দেয়,
স্বপ্নেরও এক মূল্য আছে।
শেষে মানুষ বোঝে,
অচেনার আকর্ষণ আসলে নিজেরই শূন্যতার প্রতিবিম্ব,
আর সত্য ভালোবাসা পালানোর নয়—
সে পুনরাগমন, নবজন্ম,
একই মুখে নতুন সূর্যের আবিষ্কার।

তবু যতদিন মানুষ ভালোবাসার প্রতি বিশ্বাস রাখে,
ততদিন অচেনার ঘাসে হেঁটে যাওয়ার সাহস
তার হৃদয়ে অম্লান আগুন হয়ে জ্বলবে—
নীরব, কিন্তু অনন্ত,
যে আগুনের কাছে
পাপ অথবা পুণ্য মূখ্য নয়।

কোন মন্তব্য নেই: