এবার শীতে বরফ পড়বে হৃদয়ে আমার।
সাদা হয়ে থাকবে চারিধার—
যেন পৃথিবী এক নিঃশব্দ প্রার্থনার চাদরে ঢাকা,
যেখানে শব্দও আর নিজের অস্তিত্ব ভুলে যায়।
তাপমাত্রা নেমে যাবে শূন্যের অনেক নীচে,
যেখানে রক্তের স্পন্দনও হয়ে ওঠে ধ্যান,
আর নিঃশ্বাস জমে থাকে
একটি অদেখা ফুলের অপেক্ষায়।
আমি জানি, উষ্ণতা এখন এক বিলাসী স্বপ্ন—
যেমন দূর নক্ষত্রে আলো পৌঁছায়
কিন্তু ছুঁয়ে যায় না ঠান্ডা গ্রহকে।
তবু হৃদয়ের অন্ধকার উপত্যকায়
একটি ক্ষুদ্র আগুন জ্বলছে—
অতি প্রাচীন, অতি নীরব,
তোমার নামের অক্ষর দিয়ে তৈরি।
সেই আগুনের দিকে তাকিয়ে আমি ভাবি,
তুমি কি আসবে এবার?
তোমার নিঃশ্বাসের শিশিরে ভিজিয়ে দিতে
এই হিমের মরুভূমি?
তোমার দুই হাত কি স্পর্শ করবে
আমার জমাটবাঁধা একাকীত্বের ত্বককে,
যেমন সকাল ছুঁয়ে দেয়
রাত্রির কাঁপতে থাকা কুয়াশাকে?
যদি তুমি না আসো,
আমি শিখব শীতের কাছ থেকে ধৈর্য,
বরফের কাছ থেকে স্থিতি,
এবং নক্ষত্রের কাছ থেকে
অন্ধকারেও কেমন করে জ্বলে থাকতে হয়।
কিন্তু যদি তুমি আসো—
তোমার পদচিহ্নে গলতে শুরু করবে আমার নীরবতা,
আমার ভেতরের নদীগুলো আবার গাইবে গান,
আর আমি বুঝব—
উষ্ণতা কোনো ঋতু নয়,
সে এক আত্মার ভাষা।
এবার শীতে,
যদি তুমি সত্যিই আসো,
বরফ নয়—
আমার হৃদয়ই গলবে প্রথমে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন