সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫

বন্ধু

প্রত্যেক আত্মা, নিঃশব্দ ক্ষুধায়,

খোঁজে—কমপক্ষে একবার—
একটি এমন সত্তা,
যার উপর ভরসা রাখা যায়
নিঃশঙ্ক চিত্তে, নির্ভয়ে—
একজন বন্ধু,
যার নীরবতা হয়ে ওঠে ভাষা,
যার সান্নিধ্যে শব্দের প্রয়োজন থাকে না।

কিন্তু এই অনুগ্রহ
খুবই দুর্লভ
এই ক্ষণিকের পৃথিবীতে;
বেশিরভাগ হাতই,
যা বাড়িয়ে দেয়া হয়,
তারা নিজেই কাঁপে—
বাঁচতে গিয়ে ভুলে যায়
কি করে ভালোবাসতে হয়।

তবু, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ন্যায়পরায়ণ—
এটি আকাঙ্ক্ষায় সাড়া দেয় না,
সাড়া দেয় উৎসর্গে।
কিছুই লাভ হয় না
যথাযথ আত্মদান ছাড়া।

তবে মানুষ কোন অর্ঘ্য দিতে পারে
যা সময়ের ক্ষয়স্পর্শে ম্লান হয় না?

ধন নয়—
তা ক্ষয়িষ্ণু।
বুদ্ধি নয়—
তা ভ্রান্ত।
শুধু দুটি বস্তু—
হৃদয়ের পবিত্রতা
এবং অদ্বন্দ্ব সত্য

এগুলি উচ্চারণের নয়—
জীবনের ভাষায় প্রকাশ পায়।
এগুলি ঘোষণার নয়—
ব্যক্তিত্বের মৌন ঘ্রাণে প্রকাশিত হয়।

আর যখন এগুলি উৎসর্গ করা হয়
প্রভাব বিস্তারের জন্য নয়,
বরং আত্মা থেকে নিঃসৃত স্বাভাবিক সৌরভরূপে—
তখন, নিঃশব্দে,
অপ্রত্যাশিতভাবে,
মনের ভেতরের আকাশ খুলে যায়।

তুমি শুধু কাউকে খুঁজে পাও না—
তোমাকে খুঁজে পায়
চিরন্তন সেই বন্ধু—
যার কোনও রূপ নেই,
যে সমস্ত আলেয়ার পেছনের সাক্ষী।

আর সেই বন্ধুত্ব থেকে কী ঝরে পড়ে?
না, ভোগ নয়—
তা ক্ষণস্থায়ী।
না, সাফল্য নয়—
তা বন্ধন।

বরং আরও দুর্লভ উপহার:
শর্তহীন ভালোবাসা।
বোধের অতীত এক শান্তি।
আনন্দের উজ্জ্বলতা,
কোনো তরল আবেগ নয়।

এসব দেয়া হয় না,
জাগ্রত হয়—
যেন এতকাল নিজের মাঝেই ছিল
তবুও তুমি জানতে না
অস্তিত্বের কুয়াশায় ঢেকে ছিল।

ঈশ্বরের বন্ধু হয়ে ওঠা মানে
আকাশে উড়ে যাওয়া নয়—
বরং আত্মার গহিনে নামা,
যেখানে এক নিরব অসীম সত্তা
তোমার মধ্যেই অপেক্ষা করছে,
প্রেম নিয়ে,
চিরকাল ধরে।

কোন মন্তব্য নেই: