তুমি কতখানি আকাশ
একজন মানুষের পরাণকে দিতে পারো
তাকে নিজের না ভেবে?
সেটা—
না হোক ত্বকে নাম লেখার আবেগ,
না হোক আকুল আকাঙ্ক্ষার কাঠামো l
ভালবাসা দেহের সীমান্তে শেষ নয়,
মনকে ছুঁয়েও না।
এ শুরু হয় যখন উভয়ই বিলীন—
একটি শিখা, যার নেই কোনো সলতে,
একটি হাওয়া, যার নেই কোনো সীমান্ত।
ভালবাসা মানে
ধরার নয়,
ছাড়ার ক্ষমতা অর্জন।
ভালবাসা মানে—
একটি এমন বিশালতা সৃষ্টি করা
যেখানে অপরজনের আকুল পরাণে
নির্বিঘ্নে খুলে যেতে পারে অনুভব
আপন উৎকর্ষ আবিষ্কারের নেশায়,
পরতে পরতে, সম্পূর্ণ বন্ধনহীন।
তুমি কি প্রত্যক্ষ করতে পারো
একজন মানুষের জাগরণ—
তাকে নিজের সূর্যোদয় না ভেবেও,
একটি স্বতন্ত্র ভোর হিসেবে
যা তোমার দিগন্তকে ছুঁয়েও নত হয় না?
যা নিজেকে নিজে
বিকশিত করতে জানে অবিরত?
সত্যিকারের ভালবাসা বাঁধে না।
সে কেবল শুভাকাঙ্খী হতে জানে।
সে স্থির থাকে,
যাতে অপরজন তুমুল নাচতে পারে।
এ ভালবাসা মিশে যাওয়ার আকুতি নয়,
বরং মুক্ত করে দেওয়ার অনন্ত করুণা।
এ এমন আনন্দ,
যা আকাশের মতো—
নিজে থেকে যায়,
তবু অন্যকে উড়তে দেয়।
ভালবাসা আয়না নয়,
একটি জানালা—
স্বচ্ছ, মুক্ত, অসীম—
যার ভেতর দিয়ে
একটি পরাণ
নিজের গভীরতরকে আবিষ্কার করে।
তাই,
যদি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করো
তোমার ভালবাসা কতটা সাচ্চা, কতটা গভীর,
প্রশ্ন করো বরং—
তাকে তুমি কতটা স্বাধীনতা দিতে পারো
ভয় না পেয়ে,
অহেতুক হারানোর আশঙ্কা না রেখে,
ভালবাসা পাওয়ার বাসনায়
আটকে না রেখে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন