শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে
মুখোশ রূপে ব্যবহার করে
আদপে আমাদের মধ্যে
৯৯% এর অধিক দেশের নাগরিক
মূলতঃ, দিবারাত্র সুযোগ খুঁজে চলেছি
নতুন নতুন মুখরোচক খাওয়া এবং
নুতন নূতন যৌনতৃপ্তিদায়ক শোওয়ার ।
কৈশোর হতে
পাশবিক প্রবৃত্তি প্রশমনের
সঠিক শিক্ষাটি দেওয়ার যোগ্য
না আছে মাতা-পিতা একটিও ঘরে,
না আছে শিক্ষক, পুস্তক - বিদ্যালয়ে ।
বাস্তবে তাই
প্রবৃত্তিই প্রধান শিক্ষক আমাদের জীবনে।
আমরা তার কাছে শুধু শিখেছি
আমাদের প্রত্যেকেরই বহুবিধ ভোগের
আশু এবং অতীব প্রয়োজন,
অথচ যোগ্যতা অর্জনটি গৌণ ।
ফলতঃ চৌর্যবৃত্তি ও ছিনতাই সম্বল ।
এই কুশিক্ষার সুদীর্ঘ তাড়না থেকে
আমরা গড়ে তুলেছি আমাদের দেশ
বীর্যহীন পুরুষকুল
ও অতৃপ্ত নারী-জগতের নিখুঁত সমন্বয়ে ।
প্রবল বিষাদে ও হতাশায়
বিবেকানন্দ একদা বলেছিলেন -
"দশজন প্রকৃত ব্রহ্মচারী পেলে
আমি ভারতবর্ষকে পাল্টে দিতে পারতাম ।"
তিনি মিথ্যা বলেননি ।
ভারতবর্ষে নিযুত সংখ্যক সাধু লভ্য,
অথচ, দশজন প্রকৃত ব্রহ্মচারী বীর
যে বাস্তবে জোটে না, এ সকরুণ সত্য
তিনি অনুধাবন করেছিলেন
আপন ব্রহ্মচর্যের অনমনীয় দৃঢ়তার সাথে
এ যুগের যুবসম্প্রদায়ের সামনাসামনি তুলনায় ।
বীর্যহীন সাধু ও দারিদ্র-সর্বস্ব ভিক্ষুকে
তফাৎ থাকতে পারে না বাস্তবে কোনও ।
কাপুরুষের দেশ ভারতবর্ষ
তাই ক্রমাগত ধর্ষিত ও লুন্ঠিত হয়ে চলেছে
রাজনীতি ও ধর্মের দ্বারা
শুধুমাত্র
বীর্যবান প্রতিরোধের নিদারুণ অভাবে ।
ভারতবর্ষ আজ কানায় কানায় ভরে গেছে
বীর্যহীন ভণ্ড-পৌরুষে
আর ধর্মজ্ঞানের অহমিকাটি
পরিপাটি বজায়ে রেখে
অপদার্থ ও অর্ধশিক্ষিত আমরা
আজও ক্রমাগত প্রচার করে চলেছি
কর্মযোগ-বিরোধী ধর্মীয় সহবত,
যা তৈরী করে চলেছে
আমাদের মত উদ্ভট প্রাণীকুল
যার পা আছে, মাথা আছে
কিন্তু মাঝে প্রয়োজনীয় অংশটি নেই
যা ক্ষাত্রতেজ-কে
বীরদর্পে ধারণ করতে পারে ।
আমরা অথচ, আশা করে চলেছি
কোনও মহামানব, সহসা আবির্ভূত হয়ে,
অবশেষে পরিত্রাণ ঘটাবেন আমাদের
এ করুণাকর জাতীয় দৈন্য হতে ।
সেদিন নিশ্চয় আনন্দের নহবত বসবে
ভারতবর্ষের ঘরে ঘরে ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন