রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

ব্যর্থতা ও যোগ্যতা

ব্যর্থতা প্রথমে আসে
একজন কসাইয়ের মতো।

তার হাতে থাকে
রক্তমাখা প্রত্যাখ্যান,
অসমাপ্ত স্বপ্নের মাথার খুলি,
এবং ভেঙে যাওয়া অহংকারের
গরম ধোঁয়া ওঠা মাংস।

অধিকাংশ মানুষ
প্রথম আঘাতেই পালিয়ে যায়।

তারা ব্যর্থতাকে দেখে
অপমান হিসেবে,
অভিশাপ হিসেবে,
নিয়তির নিষ্ঠুর উপহাস হিসেবে।

তারপর তারা ফিরে যায়
সেই নিরাপদ অন্ধকারে
যেখানে মানুষ বেঁচে থাকে
অসম্পূর্ণ সম্ভাবনার কবরস্থানে।

কিন্তু কিছু মানুষ আছে—
অদ্ভুত,
ভয়ংকর,
প্রায় অতিমানবীয় কিছু মানুষ—

যারা ব্যর্থতার ভেতরে যোজ্যতার 
গোপন বিদ্যালয় খুঁজে পায়।

তারা ধ্বংসস্তূপের উপর বসে
ধৈর্যের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে
কোথায় ভেঙেছিল সেতু,
কোন দুর্বলতায় ডুবেছিল জাহাজ,
কোন ভুল সমীকরণে
অন্ধকার প্রবেশ করেছিল জীবনে।

তারা কাঁদে—
কিন্তু বিশ্লেষণও করে।
তারা রক্তাক্ত হয়—
কিন্তু নোটও নেয়।

কারণ তারা জানে
ব্যর্থতা কখনও সম্পূর্ণ শত্রু নয়।

সে এক নিষ্ঠুর শিক্ষক।

সে প্রথমে তোমার অহংকার হত্যা করে,
তারপর ধীরে ধীরে
তোমাকে তোমার প্রকৃত আকৃতি দেখায়।

দূরদর্শী মানুষরা
তা বুঝতে শেখে।

তারা জানে
আজকের পতন
হয়তো আগামী দশকের ভিত্তিপ্রস্তর।

তারা জানে
একটি ভুল
ঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে
তা ভবিষ্যতের হাজার ভুলকে হত্যা করতে পারে।

তাই তারা থামে না।

প্রত্যেক ব্যর্থতার পর
তারা নিজেদের পুনর্গঠন করে
যেন ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী
আরও শক্তিশালী প্রাচীর নিয়ে
পুনর্জন্ম নিচ্ছে।

তাদের আত্মা ধীরে ধীরে
লোহায় পরিণত হয়।

মানুষ ভাবে
তারা সৌভাগ্যবান।

কিন্তু কেউ দেখে না
রাত্রির পর রাত্রি
তারা নিজেদের ভাঙা অংশগুলো
জোড়া লাগিয়েছে
অসীম ধৈর্যের সূঁচে।

কেউ দেখে না
তারা ব্যর্থতার মৃতদেহ কেটে
তার ভিতর থেকে
সাফল্যের মানচিত্র বের করেছে।

এই মানুষগুলোই একদিন
অসম্ভবকে অভ্যাসে পরিণত করে।

কারণ তারা ব্যর্থতাকে
সমাপ্তি হিসেবে নয়—
তথ্য হিসেবে পড়ে।

তারা প্রতিটি পতন থেকে
নতুন গণিত তৈরি করে।
প্রতিটি অপমান থেকে
নতুন শৃঙ্খলা।
প্রতিটি ক্ষতি থেকে
নতুন দূরদৃষ্টি।

আর তখন—
নিয়তি নিজেই বিস্মিত হয়ে দেখে
যে মানুষটিকে সে
বারবার ধ্বংস করতে চেয়েছিল,
সেই মানুষই
নিজের ভাঙা ইট দিয়ে
শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করেছে
একটি অমর দুর্গ।

কোন মন্তব্য নেই: