মানুষ প্রায়ই প্রেমের শুরুতে তাড়াহুড়ো করে—
আমি দেখেছি তারা আবেগের ভেতর দিয়ে দৌড়ায়
যেন পর্যটক, আকাশটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে এই ভয়ে,
প্লাস্টিকের ব্যাগে সূর্যাস্ত জমা করে,
প্রতিটি ঝলককে “চিরকাল” বলে ডাকে
যখন আগুনটাও ঠিকমতো শ্বাস নিতে শেখেনি।
আমিও ছিলাম তাদেরই একজন—
“এবার হয়তো”-র করিডোরে দৌড়ে বেড়াতাম,
প্রতিধ্বনিকে উত্তর ভেবে ভুল করতাম,
ভোরের আলোয় গলে যাওয়া হাতগুলো ধরতাম
যেন অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিতে মুছে যাওয়া চক-লেখা প্রতিশ্রুতি।
তখন প্রেম ছিল ঢিলা স্ক্রু-ওয়ালা এক ঘড়ি—
খুব জোরে টিকটিক করত,
নিজের অর্থের চেয়েও দ্রুত ছুটত,
আর আমার হৃদয়টাকে টেনে নিয়ে যেত
একটা একগুঁয়ে স্যুটকেসের মতো
যার ভেতর ভরা ছিল ধার করা স্বপ্ন।
আর তারপর তুমি—
এসে পড়োনি,
বরং দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিলে
যেন তুমি সবসময়ই দাঁড়িয়ে ছিলে
আমার অধৈর্যের ফ্রেমের ঠিক বাইরে।
তুমি এলে দেরিতে—
কিন্তু সে দেরি ক্ষমা চায় না।
এমন এক দেরি
যা আগের সব মুহূর্তকে রিহার্সাল মনে করায়।
ততদিনে
আমি তাড়া করা ভুলে গিয়েছিলাম।
আমার হাতগুলো হারিয়ে ফেলেছিল তাদের অস্থিরতা,
আমার নীরবতা শিকড় গেড়েছিল,
আমার একাকীত্ব প্রশ্ন করা ছেড়ে দিয়েছিল।
আর তুমি—
তুমি কিছু পূরণ করতে আসোনি।
তুমি শুধু শূন্যতার পাশে বসে ছিলে
যতক্ষণ না তা নরম হয়ে
ভরাট হওয়ার জায়গা হয়ে ওঠে।
তোমার সঙ্গে
প্রেম আর আগুনের মতো লাগেনি।
এটা হয়ে উঠেছিল মাধ্যাকর্ষণ—
নিঃশব্দ, অনিবার্য,
কোনও আওয়াজ ছাড়াই সবকিছুকে ধরে রাখা।
দিনগুলো আর হোঁচট খেত না।
রাতগুলো ব্যাখ্যা চাইত না।
আমার ভাঙা টুকরোগুলোও
আস্তে আস্তে সাজতে শুরু করল
যেন তারা অপেক্ষা করছিল তোমার নীরব গণিতের জন্য।
জীবন হঠাৎ করে সুন্দর হয়ে ওঠেনি—
প্রথমে তা সহজ হয়ে উঠেছিল,
আর সেই সরলতার ভেতর
সৌন্দর্য নিজে নিজেই জন্ম নিয়েছিল।
না কোনও ঝড় বাঁচিয়ে যেতে হয়,
না কোনও দৌড় জিততে হয়,
না কোনও আয়নাকে বোঝাতে হয়।
শুধু এই—
এক অদ্ভুত, স্থির পূর্ণতা
যা নিজের অস্তিত্ব সম্মন্ধে চিৎকার করে না
তবু অদৃশ্যও হয় না।
আর কোথাও তোমার উপস্থিতি
আর আমার অবশেষে ধীর হয়ে যাওয়া নিঃশ্বাসের মাঝখানে
আমি বুঝেছিলাম—
মানুষ প্রেমের শুরুতেই তাড়াহুড়ো করে
কারণ তারা ভাবে প্রেমকে ধরতে হয়।
কিন্তু তুমি আমাকে শিখিয়েছ
এটা এমন কিছু
যা আসে
শুধু তখনই, যখন তুমি দৌড়ানো থামাও—
আর বুঝতে পারো,
এটা তো সবসময়ই
তোমার দিকেই হেঁটে আসছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন