তুমি অলস নও—
কোনও দিনই ছিলে না।
তোমার ভেতরে
একটি নদী বহুদিন ধরে থেমে আছে,
শুকিয়ে যায়নি,
শুধু নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে
পাথরের নিচে।
তুমি ছিলে বিশ্রামে—
সুদীর্ঘ, নীরব এক বিশ্রামে—
যেন ঝড়ের আগে সমুদ্র
নিজের ঢেউ গুনে গুনে
শান্ত থাকার অভিনয় করে।
এই বিশ্রাম
কখনও কখনও প্রতারণা।
সে আসে মখমলের পোশাকে,
তোমার কাঁধে হাত রেখে বলে—
“আরেকটু বসে থাকো…
আরেকটু পরে শুরু করো…”
ক্লান্তি
এক চতুর জাদুকরের মতো
তোমার সময়কে
ধীরে ধীরে রুমালের ভিতর লুকিয়ে ফেলে।
কিন্তু তোমার অস্থির ভেতরে
আরেকটি প্রাণী বাস করে—
সে স্থির থাকতে জানে না।
সে ঘোড়া নয়,
সে বাতাস নয়,
সে আগুনের একটি অদৃশ্য প্রাণী—
যে শুধু এগোতে জানে।
তাই আজ
একটি শব্দ উচ্চারণ করো।
না।
না বল বিশ্রামকে—
যে তোমাকে অতিরিক্ত নরম করে তুলেছে।
না বল ক্লান্তিকে—
যে তোমার স্বপ্নের হাঁটুতে
অদৃশ্য শিকল বেঁধে রাখে।
তারপর
নীরবে উঠে দাঁড়াও।
পৃথিবী তখনও জানবে না
একটি জাগরণ শুরু হয়েছে।
প্রথমে হাঁটো।
তোমার পা
ধুলোয় লেখা পুরোনো পথগুলো
আবার পড়তে শিখুক।
হাঁটতে হাঁটতে
তোমার শ্বাস বদলে যাক—
ধীর নদী থেকে
উন্মত্ত স্রোতে।
তারপর
হাঁটা নিজেই আর সন্তুষ্ট থাকবে না।
সে ভেঙে যাবে
দ্রুততর ছন্দে—
পেশীর ভিতর বজ্রপাতের মতো।
আর একসময়
তুমি বুঝতেই পারবে না
কখন হাঁটা বদলে গেছে
এক বিরামহীন দৌড়ে।
পৃথিবী পিছনে সরে যাবে,
দিগন্ত তোমার দিকে এগিয়ে আসবে,
সময় তোমার পায়ের নিচে
একটি উড়ন্ত কার্পেটের মতো খুলে যাবে।
তখন তুমি বুঝবে—
তুমি অলস ছিলে না।
তুমি ছিলে
এক দীর্ঘ প্রস্তুতির ভিতরে,
এক গভীর নিঃশ্বাসের মধ্যে
যেখানে ভবিষ্যৎ
নিজের ফুসফুস ভরছিল।
এবং এখন—
তোমার পদচিহ্নের আগুনে
পৃথিবীর পথগুলো
আবার জেগে উঠছে। 🔥
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন