মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

বৃহত্তর হয়ে বাঁচো

তুচ্ছতাকে করুণা করার
মানে আসলে কী?
যদি তুমি বেরিয়ে আসতে চাও
ভিক্ষুকদের বর্ণানুক্রমিক সারি থেকে—
যারা হাত বাড়ায় না,
অভ্যাস বাড়ায়,
যারা ক্যালেন্ডারের নিচে দাঁড়িয়ে
করুণা টপটপ করে পড়ার 
অপেক্ষা করে—
তবে জেগে ওঠো
সূর্য তার দায়িত্ব মনে করার আগেই।

ওঠো, যখন শহরটা এখনও সেলাই হয়নি,
যখন রাস্তারা সাক্ষীহীন হাই তোলে
আর ট্রাফিক সিগন্যাল চোখ টেপে
বিভ্রান্ত নবীর মতো।

জুতোর ফিতা বাঁধো এমনভাবে
যেন সন্দেহগুলোর চারপাশে
সংকল্পকে বেঁধে ফেলছ।
দীর্ঘ দৌড়ে বেরিয়ে পড়ো—
ক্ষুধা থেকে পালিয়ে নয়,
ক্ষুধার ভেতর দিয়েই।
শ্বাসকে ফুসফুসের সঙ্গে তর্ক করতে দাও,
হৃদয়কে বিদ্রোহ বাজাতে দাও
সেই পাঁজরের বিরুদ্ধে
যারা তাকে ভয় শিখিয়েছিল।

দৌড়াও বন্ধ দোকান পেরিয়ে,
যারা লাভের স্বপ্ন দেখে,
ঘুমন্ত বাড়িগুলোর পাশ দিয়ে,
যেখানে অনুতাপের পাশে
নাক ডাকায় উচ্চাকাঙ্খা।

কুকুরেরা তাড়া করবে তোমাকে—
তারা সবসময়ই করে—
কারণ স্বাধীনতার গন্ধ
তাদের চেনা নয়।
প্রতিটি মাইলের সঙ্গে
ঝরিয়ে ফেলো উত্তরাধিকার এর
একেকটি স্তর:
ধার করা অজুহাত,
আরামদায়ক হতাশা,
আর এই বিশ্বাস—
অপেক্ষা করাও নাকি এক ধরনের কাজ।

সকাল তোমাকে নীরবে দেখবে,
পরীক্ষা করবে তুমি সত্যিই কি বোঝো।
ঘাম তোমার ইচ্ছেগুলোকে দীক্ষা দেবে,
আর যন্ত্রণা ফিসফিস করে বলবে—
বৃদ্ধি কখনোই ভদ্র নয়।

ফিরে এলে,
ভিক্ষুকরা তখনও থাকবে—
ঘড়ির ভেতর সারিবদ্ধ,
অফিসের ভেতর সারিবদ্ধ,
আয়নার ভেতর সারিবদ্ধ—
কিন্তু তোমাকে শুধু 
আর সেই সারিতে মানাবে না।

তোমার জীবন,
এখন একটু বড় হয়ে,
তোমার পাশে পাশে হাঁটবে,
হাঁপাতে হাঁপাতে,
একটাই প্রশ্ন করবে—
কাল তুমি কি আবার
অভিযানে বেরোবে
প্রবল আত্মপ্রসারণের?

কোন মন্তব্য নেই: