সাধারণ মানুষ যাকে যৌনতা বলে,
আমি তাকে বলি—ভালবাসার ধ্যানমগ্নতা।
দুটি শরীর নয়,
দুটি নীরবতা ধীরে ধীরে একে অপরের ভিতর প্রবেশ করে,
যেন সন্ধ্যার পর আলো
নিজের উৎসে ফিরে আসে।
একটি পুরুষ, একটি নারী—
তাদের মাঝখানে কোনো তাড়া নেই,
আছে দীর্ঘ শ্বাসের মতো সময়,
যেখানে স্পর্শও আগে চোখ বন্ধ করে
নিজেকে শোনে।
মৈথুন তখন আর ঘটনা নয়,
একটি নিভৃত কক্ষ—
যেখানে অহংকারকে
জুতো খুলে বাইরে রেখে ঢুকতে হয়,
যেখানে ইচ্ছা মাথা নত করে বসে
আর মন জপ করতে থাকে অপরের নাম।
চামড়ার নিচে নয়,
তারা মেশে চিন্তার গভীরে;
রক্তের শব্দ থেমে গেলে
হৃদয়ের অর্থ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই মিলন কোনো আগুন নয়,
বরং ধীরে জ্বলা প্রদীপ—
যার শিখা কাঁপে না,
কারণ দুই হাত একসাথে
বাতাসকে থামিয়ে রাখে।
স্পর্শের পরে আসে স্পর্শহীনতা—
যেখানে শরীর আলাদা হলেও
শ্বাস একে অপরের ভিতর হাঁটে।
রাত্রি তখন আর অন্ধকার নয়,
সে হয়ে ওঠে ধ্যানের আসন;
চাদরের ভাঁজে ভাঁজে
জমে থাকে অনুচ্চারিত প্রতিশ্রুতি।
একজন আর একজনকে দেখে না,
দুজনেই দেখে একটি তৃতীয় সত্তা—
ভালবাসা,
যার কোনো লিঙ্গ নেই,
শুধু গভীরতা আছে।
মৈথুন শেষে ক্লান্তি আসে না,
আসে বিস্তার—
যেন দুই নদী মিলেও
সমুদ্র না হয়ে
আরও গভীর নদী হয়ে যায়।
এখানেই জীবনের অর্থ ধরা দেয়:
ভোগে নয়, গভীরতায়;
দখলে নয়, ধ্যানে;
জয় করতে নয়, বিলীন হতে।
এই মিলন কোনো সমাপ্তি নয়,
এ এক দীর্ঘ বাক্য
যার শেষ চিহ্ন নেই—
শুধু আছে নীরব বিরাম,
যেখানে দুজনেই একই চিন্তায়
চোখ বন্ধ করে
ধীরে ধীরে জেগে ওঠে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন