বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

নির্জন উপাসক

এ জগতে যারা সৌন্দর্যের প্রকৃত উপাসক,

তারা হৃদয়ের নিভৃত কোনে গড়ে তোলে আলাদা এক মহাবিশ্ব—
যেখানে আলো ঝরে নীরবে,
যেখানে বাতাসও পাপড়ির মোলায়েম ছোঁয়ায় কথা বলে।

মানুষের ভিড়ে থেকেও
এরা অদ্ভুত একাকী—
কারণ তাদের মন একাধিক জগতের মধ্যে দোল খায়;
এক জগত ঘর-সংসারের চেনা উষ্ণতা,
আরেক জগত এক অদৃশ্য নীল দরজা
যা শুধু হৃদয়ের গোপন স্পন্দনে খুলে যায়।

এরা অসৎ নয়—
বরং অদ্ভুতরকম সৎ এক-একটি প্রেম বহন করে,
যা তারা লুকিয়ে রাখে সবার কাছ থেকে,
কারণ সেই প্রেমের বর্ণালী সাধারণ বোধে ধরা দেয় না;
তার কম্পন, তার তরঙ্গদৈর্ঘ্য
কেবল সেই হৃদয়ই অনুভব করতে পারে
যা ভালোবাসাকে শব্দের আগে টের পায়।

তাদের ভেতরে জ্বলে ওঠে
বহুস্তরের আকর্ষণের গোপন প্রদীপ—
কখনও রাঙা গোধূলির মতো,
কখনও নৃত্যরত নদীর আলোর মতো,
কখনও আবার নিঃশব্দ আকাঙ্ক্ষার মত
যা রাতের উষ্ণ অন্ধকারে দু’চোখ ভিজিয়ে ফেলে।

তারা জানে—
সৌন্দর্যের প্রতি অনুরাগ মানেই
অনেক সময় একা থাকা,
অনেক সময় নীরবে দহন,
অনেক সময় কাঁপতে থাকা আবেগকে
নিজের বুকের ভেতর নিঃশব্দে লালন করা।

তবু এই লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা,
এই চোখের পলকে পলকে জমে ওঠা নরম আকর্ষণ
তাদের জীবনকে করে তোলে অদ্ভুতভাবে স্বর্গীয়—
যেন তারা মানুষ হয়েও
কখনও দেবতার হৃদস্পন্দন শোনে,
কখনও প্রেমিকার নীরব নিশ্বাসে
নিজেকে নতুন করে জন্ম নিতে দেখে।

সেই সব সৌন্দর্যের উপাসকরা
সবার অদৃশ্য,
কিন্তু কাছের মানুষের হৃদয়ে অমর;
কারণ তারা ভালোবাসতে জানে
অসংখ্য গভীরতার মধ্য দিয়ে—
যা সাধারণ ভালবাসার অনেক ওপারে
আরো রহস্যময়,
আরো পবিত্র,
আরো বিপজ্জনকভাবে সুন্দর।

কোন মন্তব্য নেই: