মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫

মৌন যৌনতা

কোনও একদিন

মুগ্ধ অন্তরের ক্রমাগত সিক্ততায়

তুমিই চেয়েছিলে আমাকে—

হয়তো তা ছিল ক্ষণিকের উন্মাদনা,

অথবা সময়ের কোলাহলের মধ্যে

এক ফোঁটা নীরব আশ্রয়ের খোঁজ।

আর আমিও চেয়েছিলাম তোমাকে—

না–চাইতেই

নিজের ভিতর জন্ম নেওয়া

এক অদ্ভুত চুম্বকের টানে,

যার কোনও ব্যাখ্যা নেই,

কোনও যুক্তি নেই,

শুধুই এক তীব্র আকর্ষণ

তোমাকে আরও কাছে পাওয়ার।


তারপর একদিন

সময়ের ধর্ম মেনে

নতুন আগন্তুক এলো

পরবর্তী যাপনকে 

পলাশের লালে রাঙাতে

তোমার চাতক যৌবনের দরজায়।

তার আগমনে

তোমার দিনগুলো

ধীরে ধীরে অন্য ছন্দে বাঁধা পড়ল,

এবং আগ্রহী তুমি ব্যস্ত হলে

জীবনের গতির বিবর্তন মেনে 

সহসা মধুচন্দ্রিমায়—

যেমন সব মানুষকেই হতে হয়

যখন নতুন অভিসার

চুপিসারে এসে

সুখের স্রোতের বাঁধ খুলে দেয়।


তবুও

আমার প্রতি তোমার টানটুকু

কিছুতেই মুছে গেল না—

সেই চোখ ফেরানোর আগে

মুহূর্ত-তরঙ্গের দ্বিধা।

কিন্তু এমন পথে

কেউ দীর্ঘকাল হাঁটে না;

দুই সত্যের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা

এক ধরনের শাস্তি,

যেখানে কারওই মুক্তি নেই।


তাই আমাকে

অবশেষে নির্বাক হতে হল।

শব্দরা ধীরে ধীরে

নিজেদের সমাধি খুঁড়ে নিল,

আর আমার অনুভবগুলো

মৌনতার ছায়ায় আশ্রয় নিল—

হৃদয়ের গভীর গুহায়,

যেখানে আলো কম পৌঁছায়

আর প্রতিধ্বনি বেশি।


এখন বুঝি—

সব সম্পর্কই

চাওয়ার নয়, পাওয়ারও নয়;

কিছু সম্পর্ক জন্মায়

শুধু প্রমাণ করতে,

যে কাছে আসায় যেমন

একাকিত্বের নিবৃত্তি আছে,

তেমনই শান্তি আছে বহু দূরে চলে যাওয়ায়,

আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি

শিখে যায়—

সব ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত

নিজের ভেতরেই ফিরে আসে,

নিঃশব্দে, চিহ্ন-মুক্ত,

নক্ষত্রলোকের ধূলিকণার মতো

সময়ের বাতাসে ভেসে।

কোন মন্তব্য নেই: