উপশম
ভুল অভ্যাসের ভারে
নুয়ে পড়া মানুষ যেদিন
ঝটকা মেরে উঠে দাঁড়ায়,
মেরুদণ্ড সোজা করে—
সেইদিন তার চোখে প্রথম
নিজেকে নতুন করে দেখার ঝিলিক জ্বলে।
যেদিন সে
আপোষের অবাঞ্ছিত ভার
নামিয়ে রেখে প্রস্তুত হয়
নিজের সাথে যুদ্ধের তাগিদে—
অতীতের সব শৃঙ্খল ভেঙে
অমলিন সাহসের দিকে প্রথম পা বাড়ায়—
সেদিন অলক্ষ্যে উলুধ্বনি হয়
জীবনের কিনারায়,
শঙ্খধ্বনি বাজে হৃদয়মন্দিরে;
মনে মনে দেবতা জেগে ওঠে,
জেগে ওঠে অনমনীয় ইচ্ছাশক্তির দেবালয়।
সেই মুহূর্তে
অন্ধকারের দেয়াল ফুঁড়ে
আলো এক অদ্ভুত পথ দেখায়,
দুঃখক্লান্ত দিনগুলো
ধীরে ধীরে গলে যায় আত্মবিশ্বাসের উষ্ণতায়।
যেন গন্তব্যহীন এক নাবিক
হঠাৎ দিগন্তের ওপারে
দেখে ফেলে নিজের সম্ভাবনার দীপ্তি—
তেমনি মানুষটিও বুঝে যায়,
ভাঙা পাখনা সোজা করলেই
আবার উড়ে যাওয়া যায়।
আর তখনই
মুক্তির লগন উপস্থিত হয় মানুষের—
যে লগন
শুধু সময়ের নয়,
মনেরও;
যে লগন
পরাজয়কে পুড়িয়ে ছাই করে
জয়ের ছাইরঙা ধোঁয়ায় লিখে দেয়
নতুন শুরুর গান।
সেই দিনই মানুষ আসলে জন্মায়
দ্বিতীয়বার—
নিজের হাতে, নিজের শক্তিতে,
নিজের সত্য উপলব্ধির আগুনে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন