সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫

ভদ্রতার ভঙ্গুর নিয়তি

“ভদ্রতার ভঙ্গুর নিয়তি”

অদ্ভুত হলেও সত্যি, আজও একই ঘটনা দেখা যায়—
যে পুরুষরা সত্যিই নারীদের সম্মান করে,
তারা বেশিরভাগ সময়ই একা রয়ে যায়।
নীরব রাস্তায় তাদের পদচারণা শুধু নিজের সঙ্গেই থাকে।
তাদের কথাগুলো কোমল,
চোখে ভদ্রতার শান্ত আলো,
তবুও ভালোবাসা খুব কমই থেমে যায়
তাদের অপেক্ষার সেই একাকী ঘাটে।

তারা কখনো কারও অনুভূতি জোর করে আদায় করতে চায় না,
কোনো সম্পর্ক জোর করে টিকিয়ে রাখতে চায় না।
তারা জানে—ভালোবাসা নিজের মতো করে ফুটে ওঠে,
ঠিক যেমন চন্দন নিজের গন্ধ ছড়ায় উষ্ণতায়।
তারা সামান্য হাসি দেয়, নরম যত্ন দেয়,
নীরবে ভরসা দেয়,
কিন্তু তবুও কোনো এক অজানা কারণে
তাদের সেই মধুর আশা হারিয়ে যায়।

যে পুরুষরা সম্মান দিতে জানে,
তারা সম্পর্কের কৌশলী খেলা জানে না।
মিথ্যে প্রতিশ্রুতির বাতাসে ভেসে বেড়ায় না,
অথবা পছন্দ পাওয়ার জন্য মুখোশ পরে না।
তাদের অনুভূতি গভীর নদীর মতো শান্ত,
যেখানে ভালোবাসা মানে সত্যিকারের মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
ভান বা জোরাজুরি নয়।

কিন্তু আজকের প্রেমের দুনিয়ায় চাহিদা বদলে গেছে—
এখানে উত্তেজনা বেশি, সততা কম,
হৃদয়ের শান্ত স্রোতকে এখানে খুব কম মানুষই ভাবে।
এই ভিড়ে ভদ্র এবং কোমল পুরুষরা
খুব সহজেই হারিয়ে যায়,
যেন সন্ধ্যার নরম আলো শহরের কোলাহলে ম্লান হয়ে যায়।

তবুও তারা নিজের পথ বদলায় না,
থেমে যায় না।
কারণ তারা বিশ্বাস করে—
একদিন কেউ না কেউ
তাদের নীরব কথাগুলো বুঝবে,
চোখের ভিতর লুকানো সেই শান্ত প্রার্থনাকে চিনবে,
যেখানে সম্মান আর ভালোবাসা একসাথে থাকে।

ততদিন তারা একাই থাকে,
কিন্তু সেই একাকীত্ব তাদের লজ্জা দিতে ব্যর্থ হয়। 

কোন মন্তব্য নেই: