শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

অপরিবর্তনীয়

নিঃশব্দ কুয়াশার অন্তরে
মনটা কেমন যেন ব্যথায় জেগে ওঠে—
এক অচেনা সুরে, নামহীন আবেগে।
আমি বসে থাকি, অর্ধেক স্বপ্ন, অর্ধেক নীরবতা;
দেখি—মানুষ কত ভঙ্গুর!

এক টুকরো কাচ, নিজের প্রতিফলনে কেঁপে ওঠা,
ভাঙে না তবু, প্রতি মুহূর্তে ভেঙে পড়ে অদৃশ্য শব্দে।

সময়ের আয়নায় পড়ে আছে জীবনের কিছু প্রেমপত্র —
অতীতের নিঃশ্বাসে আজও ভিজে আছে তারা।
প্রতিটি প্রতিধ্বনি উচ্চারণ করে তোমার নাম;
যদি কোনো অলৌকিক মুহূর্তে
ঘড়ির কাঁটা ফিরত উল্টো পথে,
আর জীবন আবার নতুন করে গাঁথা যেত—
তবুও কি পাল্টাত সেই অনিবার্য নিয়তি?

যা একবার জ্বলেছে প্রাণে,
তা আবারও জ্বলে—সময়েরও পরপারে।

গোপনে কেউ যেন ফিসফিসিয়ে বলে—
নিয়তি কোনো পথ নয়, এক গোপন নৃত্য;
আমরা সেখানে নিঃশব্দ নর্তক-নর্তকী,
এক অদেখা সুরে দুলে যাই—
ভাবি আমরা স্বাধীন, অথচ
নৃত্যটিই আমাদের শ্বাস, আমাদের দেহভাষা।

কখনও দেখি নিজেকেই ভালোবেসে ফেলেছি তোমার চোখে,
যেন আমি নিজ প্রেমেরই দর্শক।
তবু দর্শকও তো সেই নাটকেরই অংশ,
যেখানে আকাশও মাথা নত করে—
তারকারাও জানে, ভালোবাসার বিধি মেনে চলতে হয়।

রাত্রি তখন প্রশ্নে ভরে ওঠে—
জুঁই ফুলের গন্ধের মতো স্নিগ্ধ,
অস্থির, অথচ অমলিন:
কী সত্যি আমাদের, আর কী ঈশ্বরের ধার নেওয়া স্বপ্ন?

তোমার দিকে হাত বাড়াই—
কিন্তু ছোঁয়াটা মিশে যায় অনন্তে,
না উষ্ণ, না শীতল—
শুধু সেই কাঁপুনি, যেখানে আকাঙ্ক্ষা বেঁচে থাকে।

ভোর আসে ধীরে, ক্ষমার মতো স্নিগ্ধ,
কুয়াশা মুছে দেয় সমস্ত উচ্চারণ।
হয়তো মুক্তি মানে নিয়তিকে ভাঙা নয়,
বরং এমনভাবে আত্মসমর্পণ করা,
যাতে চক্রটাই ফুলের মতো ফুটে ওঠে।

তবু সন্ধ্যায় আবার হৃদয় ভারী হয়ে যায়—
স্মৃতির মতো ধীরে, কোমল বিষাদে।
মানুষ ছোটো, কিন্তু ভালোবাসা এত বিশাল,
যে পরাজয়ও সেখানে পবিত্র হয়ে ওঠে।
সময়ের রথচালকও হয়তো সে-ই—
যে চুপিচুপি আমাদের নিঃশ্বাসে প্রেম জাগিয়ে রাখে।

আমি তখন ঝুলে থাকি—
দৃশ্য আর অদৃশ্যের মাঝখানে,
তোমার স্পর্শ আর তোমার স্বপ্নের মাঝখানে।
চোখ দুটি সাগর, হাত দুটি নির্জন তীর।
যা একবার ঘটেছে তা মুছে যায় না;
তবু প্রতিটি ছায়ার নিচে,
অদৃশ্যভাবে আবারও জন্ম নেয় ভালোবাসা—
যেন কিছুই কখনও হারায়নি।

কোন মন্তব্য নেই: