যদি তুমি একজন মানুষকে বুঝতে পারো—
তার বর্তমান মুখোশ দেখে নয়,
নয় তার উচ্চারিত পরিচয়ে—
বরং সেই মুহূর্ত থেকে
যখন সে কাঁদতে শেখেনি,
যখন সময় তাকে গড়তে শুরু করেনি,
যখন হৃদয় ছিল নিঃশব্দ অথচ সতেজ—
সেই আদিম চেতনার উৎস থেকে—
তবে তুমি মুখ ফিরিয়ে নেবে না।
তুমি ভয় পাবে না তার চোখের ক্লান্তিকে,
ভুল করে বুঝবে না তার নীরবতাকে প্রাচীর বলে।
বরং চিনে ফেলবে—
ওটা আসলে একটুকরো নির্জনতা,
যেখানে সে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছে
বিশ্বের শব্দ থেকে।
এবং হঠাৎ, এক প্রশান্ত হাসি
উঠে আসবে তোমার ঠোঁটে—
সাধারণ সৌজন্যের মতো নয়,
বরং আত্মা থেকে আত্মায়
এক অব্যক্ত অভিবাদন।
কারণ একটি হাসি—
যদিও ইচ্ছাকৃত, তবু কোমল—
একটি নিঃশব্দ স্বীকারোক্তি,
যা বলে: “আমি তোমাকে দেখেছি।”
হয়তো পোশাকের নিচে লুকানো যুদ্ধে,
হয়তো ভাঙা স্বপ্নের মধ্যেও
তুমি এখনও জেগে আছো—
এবং সেইটুকু যথেষ্ট।
প্রত্যেক মানুষই চায়—
না হয় গোপনে,
না হয় চিৎকার করে—
কারও কাছ থেকে
একটিবার সত্যিকারের স্বীকৃতি।
তুমি যদি সেই এক মুহূর্তে
একটি হাসি উপহার দিতে পারো—
ভদ্রতার জন্য নয়,
মানবিক উপলব্ধির জন্য—
তাহলে হয়তো তুমি স্মরণ করবে,
তুমিও একদিন চেয়েছিলে
এইটুকুই—
কেউ এসে বলুক,
"তুমি হারিয়ে যাওনি।"
সেই মুহূর্তে,
তোমার হাসি হয়ে উঠবে
একটা নীরব বিপ্লব।
আর মানবতা—
তার সমস্ত ভঙ্গুর জ্যোতিতে—
পুনরায় চিনে নেবে নিজেকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন