প্রতিটি মানবজীবন এক একটি লোভ বনাম সংযমের কঠিন পরীক্ষা। গভীর আত্মশ্রদ্ধাবোধ বিনা এ পরীক্ষায় জেতা কঠিন।
আমার সঙ্গী অথবা সঙ্গিনীর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর মানব বা মানবী কী এ জগতে পাওয়া যেতে পারে না? যেতেই পারে। নূতন বৈচিত্রের পৃথক সৌন্দর্য কী অন্তরে ভালবাসার অনুভূতি সৃষ্টি করবে না? হ্যাঁ, করবেই। আমরা কী সাথে সাথে সেই নতুন মানুষটির সাথে প্রেমে মত্ত হতে চাইব? বিবেচকের ক্ষেত্রে এর উত্তরটি হলো পরিষ্কার "না"।
ভালবাসার প্রাথমিক সম্পর্কটি হলো মানুষের আপনতম ঘর, যা সব দিক দিয়ে ভালো রাখতে প্রয়োজন হয় চব্বিশ ঘন্টার, সর্ব প্রকার দায়িত্ব ও সহযোগের। এখানে সুখের সাথে শান্তির সহাবস্থান সম্ভবপর।
অপর যে কোনও অনুরাগ তাই - বাইরের জগত, সূক্ষ্ম ও সহমর্মী অনুভবের আকর সে হতেই পারে, তবে, তা পার্থিব কোনও স্থুল আদান-প্রদানের নতুন সুযোগ, লুকিয়ে লুকিয়ে, লুফে নেওয়ার জন্য নয়।
এটুকু সংযম মানবজীবনে সুখ ও শান্তির ভারসাম্য বজায়ে রাখার জন্য অতীব আবশ্যিক। নাহলে, নিজের ঘরের ছাদ বাকি জীবনের জন্য নিজে ফুটো করে ফেলার মত, অবিবেচকতা-জনিত বিপদ ঘটতে পারে, যে বিশ্বাসের কাচের ছাদ একবার উতলা আবেগের বশে ভেঙে ফেললে, কখনোই আর নিশ্ছিদ্র করে সারাতে পারা সম্ভব নয়।
প্রকৃতির রহস্যময় নিয়মে, ইচ্ছার ভাসিয়ে নেওয়া জোয়ারের বিরুদ্ধে সুনিয়ন্ত্রণ রাখার ক্ষেত্রে, ঋজু বৃক্ষসম অটল না হতে পারার কারণে, রাধা-মন নারী, সব জেনে বুঝেও, অবশ্য, বিপদের জোয়ারেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাসতে চায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন