রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২

অতৃপ্তি-জারিত

আমি জীবনকে 
আরও বেশি বাগে এনে
চেখে চেখে, তারিয়ে খেতে চাই ।
আরও আরও স্বাদ, রসের সুখ,
নিজেকে ভরপুর দিয়ে যেতে চাই ।
আমার যে সদা-প্রসারণশীল প্রবল ক্ষুধা
আমাকে নিত্য তড়পায়, 
সে পরিসরে নিবৃত্তির, তথা, পরিহারের 
কোনও উপায় আজও জানা নাই ।

কবি বা অকবি যেই হও, বিপরীত লিঙ্গে 
সুঠাম একটি শরীর হলেই,
ছলে, বলে, কৌশলে,
তোমার প্রতিটি ইচ্ছার উপরে
আমার পূর্ণ কর্তৃত্ব ও একক অধিকার চাই ।

আমার মুখোমুখি হওয়া মাত্র,
বিলকুল না বুঝতে দিয়ে, তোমার
আপন ইচ্ছা ও আবেগের স্বাধীনতাদের
হাড়-গোড় মট মট করে ভেঙে
সহজেই নুলো করে দেব ।
অতঃপর তাদের তুরন্ত বিসর্জনে, 
সে পাট চুকিয়ে দিয়ে, 
একমাত্র আমার নিগূঢ় ইচ্ছাদের 
ক্রীতদাস হতে,
আমার অভীষ্ট কামনাদের, দিনের পর দিন,
একে একে পূরণ করে যেতে,
মেনে নিতে অভ্যস্ত হবে -
এ জগতে দীন আবির্ভাব তোমার ।
আমার তৃপ্তির প্রসাদে
যে যৎসামান্য জীবিকানির্বাহ প্রাপ্য হতে হয়,
সেটুকুকেই নিয়তি মেনে নিও ।

প্রবৃত্তিদের নিয়ন্ত্রণের সুবাদে 
উন্মুক্ত হয়
যে প্রাণোদনার সৃষ্টিময় জগৎ
সে তুরীয় আনন্দের আস্বাদন হতে 
বরাবর বঞ্চিত আমি
অথবা কখনো ভুল করে স্বাদ পেলে
ফের অনায়াসেই ভুলে যাই,
কারণ, তাতে বাস্তবে ক্ষতি নাই ।

আমি মাংসাশী । 
রক্তহীন, আলুনি খাদ্য পারি না খেতে ।
মাঝেমাঝেই তোমাদের পাল্টে নেওয়া
আমাকে একঘেয়েমি থেকে মুক্ত রাখে ।
বাকি জীবনভর
আর কোনও কিছু না থাকলেও
আমার ফের এবং বারংবার
রকমারি স্বাদের উদ্দাম যৌনতা চাই ।

নিজে প্রবৃত্তির ক্রীতদাস ব'লে
কেবল ক্রীতদাসদের কৃতদার হতে চাই ।

কোন মন্তব্য নেই: