অন্ধ না হলে
পাগলের পারা ভালবাসা সুকঠিন ।
প্রথম যৌবনে, নারী হোক অথবা পুরুষ,
অনেক বেশি অসাবধান থাকে বলে
পাগলের মত ভালবাসতে পারে ।
কাকে ভালবাসছে, তার কতটা প্রাপ্য,
এসব কথা ভাবতেই চায় না ।
সে নিজে ভালবাসবে -
আপন আবেগের পূর্ণ স্বাধীনতায়,
এটাকেই একমাত্র ধর্তব্য ধরে নেয় ।
ফলতঃ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে
নিকৃষ্ট আধারে আপন উৎকৃষ্টতার অর্জন
লাগামহীনভাবে ঢেলে ফেলে
শেষ অবধি সমূহ অপচয় করে ।
মানুষ যথারীতি ঠকে বাস্তবের কষাঘাতে ।
লাভ-লোকসান
আর দেনা-পাওনার জগৎ
মানুষকে যত হিসেবী হতে শেখায়
মানুষ ক্রমশঃ ততই
পাগলের মত ভালবাসতে ভুলে যায় ।
বয়স বাড়লেও
আকুলি-বিকুলি-রা কিন্তু মরে না ।
সমর্পণ-প্রবণ পরাণখানি
ভিতরে ভিতরে তড়পাতে থাকে
আর একবার নতুন উদ্যমে
পরাণের প্রতিটি আগল খুলে
নগ্ন হৃদয়ে
পাগলের মত ভালবাসতে চেয়ে ।
অথচ সেখানেও বাধা ।
লাভ-লোকসানের হিসেবদের
লাল কাপড়ে মুড়ে, তাকে তুলে রেখে,
দৈনন্দিনের বাঁধাছকের নিরাপত্তার বাইরে,
অনিশ্চিতের সবুজে
ফের আরেকবার
সাহস করে ঝাঁপ দিয়ে
লাগামহীন হারিয়ে না গেলে
পাগলের মত ভালবাসা সম্ভব হয় না
অধিকতম ক্ষেত্রে ।
বয়স যত বাড়ে,
ততই, সাবধানতায় তটস্থ,
শুকনো মুখের ঢল নামে তাই নদীর পারে ।
এরা আর নামতে পারবে না
'পাগলের মত ভালবাসার' জলে
এ জীবনে ।
দুঃখী-জনমের ক্রমবর্ধিষ্ণু ভীড়ে
বাধ্য আরও বেশি দমবন্ধ হতে থাকে
করুণাঘন ধরিত্রী মায়ের ।
.
https://youtu.be/32VFo_ErsXI
.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন